দেশ

‘ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহার!’ জোড়া এফআইআর নিয়ে আম আদমি পার্টিকে তুলোধোনা সন্দীপের

আপ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দেগে সন্দীপ এই পদক্ষেপকে ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহার বলে অভিহিত করেছেন।

Truth of Bengal: আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় বড়সড় আইনি বিপাকে পড়েছেন সাংসদ সন্দীপ পাঠক। পাঞ্জাব পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় দুটি পৃথক এফআইআর দায়ের করার পর থেকেই তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। তবে অবশেষে জনসমক্ষে এসে এই বিষয়ে সরব হয়েছেন তিনি। আপ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দেগে সন্দীপ এই পদক্ষেপকে ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহার বলে অভিহিত করেছেন।

রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে সন্দীপ পাঠক জানান, তিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার খবর জানতে পারলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা এফআইআরের কপি পাননি। তাঁর দাবি, এই মামলাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দল ছাড়ার কারণ স্পষ্ট করে তিনি বলেন যে, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং আদর্শগত এবং কাজের পদ্ধতির অমিলের কারণেই তিনি আম আদমি পার্টি ত্যাগ করেছেন। এই আইনি লড়াইয়ের যোগ্য জবাব দেবেন বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে আপের মোট সাতজন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। এই তালিকায় স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং এবং সন্দীপ পাঠকের মতো প্রভাবশালী নাম ছিল। পাঞ্জাব পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দলবদলু এই নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং নারী হেনস্থার মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাগুলো জামিন অযোগ্য হওয়ায় সন্দীপের গ্রেপ্তারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সন্দীপ পাঠকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই তৎপরতাকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির আভাস মিলছে। বিজেপি এবং অকালি দলের মতো বিরোধী দলগুলো একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে বর্ণনা করেছে। বিরোধীদের দাবি, প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে গিয়ে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করছে শাসক দল। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে পাঞ্জাবে বিজেপি এবং অকালি দলের পুনরায় রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই আইনি জলঘোলা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Related Articles