রাজ্যের খবর

বাংলার মসনদে গেরুয়া ঝড়! ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান, কীভাবে সম্ভব হল এই ম্যাজিক?

ধর্ম, দুর্নীতি আর বাঙালির আবেগ! বাংলার ভোটরঙ্গে কেন ধরাশায়ী শাসকদল?

Truth of Bengal: বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে আজ এক ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের মসনদে বসতে চলেছে গেরুয়া শিবির। প্রায় দু’শোর কাছাকাছি আসন নিয়ে বাংলার মসনদ এখন বিজেপির দখলে। এই বিপুল জয় কেবল সংখ্যার খেলা নয়, এর পেছনে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী রণকৌশল। কী সেই ম্যাজিক, যার জেরে একসময়ের ‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে ফেলে বিজেপি আজ বাংলার অন্দরে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের জয়ের পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে ‘ধর্মীয় মেরুকরণ’। শুভেন্দু অধিকারীর লাগাতার হিন্দুত্বের প্রচার এবং ‘অনুপ্রবেশকারী’র ভয়, বাঙালি মধ্যবিত্ত হিন্দুদের একাট্টা করতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। ভোটের ফল স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, হিন্দু ভোট তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনেকটাই একজোট হয়েছে। এর পাশাপাশি ছিল প্রবল ‘প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা’। ১৫ বছরের শাসনে নিয়োগ দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জনমানসে যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল, বিজেপি তাকেই নিজেদের জয়ের হাতিয়ার করেছে।

তবে, এবারের জয়ের মূল চাবিকাঠি সম্ভবত লুকিয়ে রয়েছে বিজেপির ‘শিক্ষা’য়। ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ভিনরাজ্যের নেতাদের অতিরিক্ত দাপাদাপি যে ভুল ছিল, তা এবারের প্রচারে পুরোপুরি শোধরানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার চেয়ে প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বেশি। পাশাপাশি, বাঙালি ‘ভদ্রলোক’ ইমেজের জন্য শমীক ভট্টাচার্যের মতো মুখকে সামনে আনা, ‘জয় শ্রীরাম’-এর পাশাপাশি ‘জয় মা কালী’ স্লোগান এবং নেতাদের মাছ হাতে প্রচার, সবই ছিল বাঙালিয়ানার মোড়কে নিজেদের তুলে ধরার সুপরিকল্পিত কৌশল। এমনকী, তৃণমূলের ‘ভাতার রাজনীতি’র পাল্টা হিসেবে বিজেপি এবার আরও বড় ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা ভোটারদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অবশ্য জলঘোলা কম হয়নি। তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ আখেরে বিজেপিকে সুবিধা করে দিয়েছে। অন্যদিকে, তথাকথিত ‘ফ্লোটিং ভোটার’ বা তৃণমূলের দাপটে অতিষ্ঠ মধ্যবিত্ত শ্রেণি এই ‘পরিবর্তন’-এর চোরাস্রোতে গা ভাসিয়েছেন। সব মিলিয়ে, আজ বাংলার রায় তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিল। গেরুয়া শিবির প্রমাণ করল, কেবল সংগঠনের জোরে নয়, বরং কৌশল ও পরিস্থিতির সঠিক ব্যবহার জানলে বাংলার মসনদ জয় অসম্ভব নয়। আজ বাংলার আকাশে গেরুয়া আবির, আর নবান্নের অলিন্দে নতুন এক শুরুর অপেক্ষা।

Related Articles