রাজ্যের খবর

‘মাছ চোর’ গানে বিদ্ধ শওকত, ভাঙড়ের লড়াইয়ে জিতলেন পীরজাদা

ভাঙড়ে বাজিমাত ভাইজানের! তৃণমূলের ‘তুরুপের তাস’ শওকত মোল্লাকে হারিয়ে ফের নিজের গড় ধরে রাখলেন নওশাদ

Truth of Bengal: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলে বাংলার বহু হেভিওয়েট নেতার ভাগ্য যখন বিপাকে, তখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে ইতিহাস লিখলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তৃণমূল কংগ্রেসের সবরকম কৌশল, শওকত মোল্লাকে ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে ব্যবহার করা, সবই ব্যর্থ করে দিয়ে নিজের গড় ফের দখল করলেন ‘ভাইজান’। প্রথম রাউন্ডে শওকত মোল্লা কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিত্রনাট্য সম্পূর্ণ বদলে যায়। সব হিসেব উল্টে দিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হলেন নওশাদ।

রাজনীতির ময়দানে নওশাদ সিদ্দিকী মানেই এক ব্যতিক্রমী নাম। গত পাঁচ বছরে বিলাসবহুল জীবন নয়, বরং এলাকার উন্নয়ন ও বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে প্রায় সাড়ে চারশো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন তোলা, এই ছিল তাঁর মূল পুঁজি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙড় পুনর্দখলে মরিয়া হয়ে ক্যানিং পূর্ব থেকে সরিয়ে এনেছিল বিতর্কিত নেতা শওকত মোল্লাকে। কিন্তু শওকতের দীর্ঘদিনের ‘দাপুটে’ ইমেজ বা ‘মাছ চোর’ গানকে ঘিরে ভাইরাল বিতর্ক, সবই তাঁর হারের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সংখ্যালঘু ভোট তো বটেই, সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশের ক্ষোভ উগরে পড়েছে ব্যালট বাক্সে।

২০২১ সালেই ভাঙড় প্রমাণ করেছিল, তারা প্রথাগত রাজনৈতিক দলের বাইরে বেরিয়ে ‘ঘরের ছেলে’ নওশাদকে বেছে নিতে জানে। ছাব্বিশেও সেই ধারা অব্যাহত। গণনার ট্রেন্ড বলছে, ২৭ হাজারের বেশি ব্যবধানে শওকত মোল্লাকে হারিয়ে নওশাদ প্রমাণ করলেন, ভাঙড়ে তৃণমূলের বহিরাগত বা ‘দাদাগিরি’র রাজনীতি আর চলে না। শুধু ভাঙড় নয়, মিনাখাঁ আসনেও আইএসএফ প্রার্থীর জয় দলের শক্তিবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচনের আগে ভাঙড়ে শান্তি ফেরানো আর কর্মসংস্থান, এই দুই ইস্যু ছিল নওশাদের প্রধান প্রচারের আলো। তৃণমূলের অশান্তির রাজনীতি এবং শওকতের ভাবমূর্তি ভাঙড়বাসীর মনে যে প্রভাব ফেলেছিল, তার প্রতিফলন মিলল আজকের ফলাফলে। ভাঙড়ের এই জয় শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্র জয়ের গল্প নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলির কাছে এক কড়া বার্তা। বিরোধীরা যেখানে বিজেপি-তৃণমূলের বাইনারিতে আটকে থাকতে চাইছে, সেখানে নওশাদ সিদ্দিকীর এই জয় প্রমাণ করল, মানুষ এখনও সঠিক নেতৃত্ব আর কাজের নিরিখেই শেষ কথা বলে।

Related Articles