কলকাতা

ফাইল লোপাটের আশঙ্কা! নবান্ন থেকে মহাকরণ, সরকারি নথি সুরক্ষায় টিম পাঠাল কমিশন

নবান্ন, বিকাশ ভবন, খাদ্যভবন, সরকারি দফতরে কিউআরটি-র হানা, নথি লুঠের আশঙ্কায় তোলপাড় প্রশাসনিক মহল

Truth of Bengal: বিধানসভা নির্বাচনের গণনার ট্রেন্ড বলছে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল সময়ের অপেক্ষা। বিজেপি ১৯১টি আসনে এগিয়ে থাকায় নতুন সরকার গঠনের ছবিটা এখন প্রায় স্পষ্ট। আর ঠিক এই সন্ধিক্ষণেই রাজ্যের প্রশাসনিক দপ্তরগুলিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করল নির্বাচন কমিশন। নবান্ন, মহাকরণ, বিকাশ ভবন, খাদ্যভবন থেকে শুরু করে জলসম্পদ ভবন, রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে পৌঁছে গেল কেন্দ্রীয় বাহিনীর কুইক রেসপন্স টিম (QRT)।

নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি সুরক্ষার উদ্দেশ্য। প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার হুঙ্কার দিয়েছিলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের সমস্ত দুর্নীতি সংক্রান্ত ফাইল খোলা হবে।” সেই কথার রেশ ধরেই প্রশাসনিক অন্দরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই পুরনো জমানার কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল গায়েব হয়ে যেতে পারে। সেই আশঙ্কাই এখন কমিশনের কাছে বড় উদ্বেগের কারণ।

নবান্ন বর্তমানে রাজ্যের মূল প্রশাসনিক ভবন হলেও, বিজেপি মহাকরণ বা প্রাচীন রাইটার্স বিল্ডিংকে ফের মূল প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। তবে ভবনের চেয়েও এখন কমিশনের কাছে বড় অগ্রাধিকার সরকারি নথিপত্রের সুরক্ষা। বিজেপি আগেই অভিযোগ করেছিল যে, তৃণমূল জমানার দুর্নীতির প্রমাণ লোপাট করার জন্য মরিয়া প্রচেষ্টা চলতে পারে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কমিশন কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। নবান্নের চারপাশে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, সোমবার দুপুরের পর থেকেই অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই কুইক রেসপন্স টিমগুলিকে বিভিন্ন ভবনে পাঠানো হয়েছে। যে সরকারি নথিপত্রগুলি এতদিন সাধারণ অবস্থায় ছিল, সেগুলির সুরক্ষায় এখন ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই ‘অ্যাকশন’ বুঝিয়ে দিচ্ছে, ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কেবল রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিকভাবেও অত্যন্ত কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে। ফাইল লোপাটের আশঙ্কায় কমিশনের এই তৎপরতা বর্তমান সরকারের অন্দরে যথেষ্ট অস্বস্তি বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলার প্রশাসনিক করিডোরে এখন চরম উত্তেজনার আবহ।

Related Articles