Truth of Bengal: ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টের বিজ্ঞানীরা এমন এক ‘সুপার ভ্যাকসিন’ তৈরি করেছেন, যা গবেষণাগারে ইঁদুরের শরীরে ক্যান্সার হওয়া সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করেছে। এই পরীক্ষামূলক টিকাটি একটি বিশেষ রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বর্ধক (immune-boosting) ফর্মুলার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। এই টিকা ইঁদুরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করতে এবং সেগুলোকে টিউমারে পরিণত হওয়ার আগেই ধ্বংস করে দিতে সাহায্য করেছে। একাধিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, টিকা নেওয়া বেশিরভাগ ইঁদুর মাসের পর মাস সুস্থ ছিল, যেখানে টিকা না নেওয়া ইঁদুরগুলোর শরীরে ক্যান্সার তৈরি হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এই উদ্ভাবন এমন এক ভবিষ্যতের দিকে দরজা খুলে দিতে পারে, যেখানে ক্যান্সার শুরু হওয়ার অনেক আগেই তা থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে (Cancer Vaccine)।
এই নতুন ভ্যাকসিন শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দেয় যাতে অস্বাভাবিক কোষগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করে আক্রমণ করা যায়। এর বিশেষত্ব হলো, এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সারকে লক্ষ্য করে না; বরং মেলানোমা (Melanoma), অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার (Pancreatic Cancer) এবং স্তন ক্যান্সার (Breast Cancer) সহ বেশ কয়েকটি মারাত্মক ও আক্রমণাত্মক ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, টিকা নেওয়া ইঁদুরগুলোর শরীরে টিউমারের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ফলাফল হলো, টিকাটি শুধুমাত্র নতুন টিউমার তৈরিই প্রতিরোধ করেনি, বরং ক্যান্সারকে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া বা মেটাস্টেসিস (Metastasis) থেকেও রুখে দিয়েছে। ক্যান্সার-সম্পর্কিত মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো মেটাস্টেসিস—যখন রোগটি ফুসফুস বা যকৃতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের ক্ষেত্রেও যদি একইরকম সুরক্ষা অর্জন করা যায়, তবে তা লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচাতে এক বিশাল পদক্ষেপ হতে পারে (Cancer Vaccine)।
সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যে টিকা তৈরি হয়, তার থেকে এই ক্যান্সার টিকাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ ক্যান্সার তৈরি হয় শরীরের নিজস্ব কোষ থেকেই। এর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো একটি অনন্য উপাদান, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘সুপার অ্যাডজুভ্যান্ট’ বলছেন। এই উপাদানটি সাধারণ টিকার ফর্মুলার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে রোগ প্রতিরোধক কোষগুলো দ্রুত এবং আরও কার্যকরভাবে ক্যান্সার কোষ খুঁজে বের করে ধ্বংস করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই ফলাফল অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক হলেও গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গবেষণাটি শুধুমাত্র ইঁদুরের ওপর চালানো হয়েছে এবং মানুষের উপর অনুরূপ টিকা নিরাপদে ব্যবহার করতে আরও বহু বছর ধরে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হবে। বিজ্ঞানীরা আশাবাদী হলেও সুরক্ষার মাত্রা, ডোজ এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে তাঁরা জোর দিয়েছেন।
যদি ভবিষ্যতে মানুষের ওপর চালানো ট্রায়ালে একইরকম সাফল্য দেখা যায়, তবে ক্যান্সার প্রতিরোধের ধারণাটি সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে পারে—একে আর দেখা হবে না রোগ দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসার বিষয় হিসেবে, বরং গোড়াতেই থামিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে। এটি বিশেষত সেই সব মানুষের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে, যাদের পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস আছে বা যারা উচ্চ বংশগত ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই ‘সুপার ভ্যাকসিন’ এখনও বিজ্ঞানীদের কাজের একটি অংশ, তবে এর সম্ভাবনা অপরিমেয় (Cancer Vaccine)।






