Brain-Eating Amoeba: অদৃশ্য ঘাতক! জরাজীর্ণ জলের পাইপ বেয়ে মানুষের শরীরে ঢুকছে ‘মস্তিষ্কখেকো’ অ্যামিবা
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের এই গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি 'বায়োকন্টামিন্যান্ট' নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
Truth of Bengal: বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘মস্তিষ্কখেকো’ অ্যামিবা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীদের একটি দল সতর্ক করে জানিয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জরাজীর্ণ জল সরবরাহ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে এই মারাত্মক প্যাথোজেনগুলো এখন অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের এই গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি ‘বায়োকন্টামিন্যান্ট’ নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই অণুজীবগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক কারণ এরা এমন প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে যা অন্য জীবাণুদের জন্য অসম্ভব। চিনের সান ইয়াত সেন ইউনিভার্সিটির প্রধান গবেষক লংফেই শু জানিয়েছেন, এই অ্যামিবাগুলো উচ্চ তাপমাত্রা এবং ক্লোরিনের মতো শক্তিশালী জীবাণুনাশকও সহ্য করতে সক্ষম। এমনকি যে জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে মানুষ নিরাপদ বলে মনে করে, সেখানেও এরা দিব্যি টিকে থাকতে পারে।
অ্যামিবা সাধারণত মাটি এবং জলে পাওয়া যায় এমন এক-কোষী জীব। এদের বেশিরভাগ প্রজাতি ক্ষতিকারক না হলেও কিছু প্রজাতি ভয়াবহ সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত হলো ‘নিগ্লেরিয়া ফাউলেরি’ (Naegleria fowleri), যা মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা নামেই পরিচিত। সাঁতার কাটার সময় নাক দিয়ে দূষিত জল প্রবেশ করলে এটি মস্তিষ্কে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটায়, যা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়। গত কয়েক বছরে ভারতের কেরালা রাজ্যেও এই জীবাণুর সংক্রমণে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
এই গবেষণায় আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অ্যামিবা অনেক সময় অন্যান্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের গোপন বাহক হিসেবে কাজ করে। এরা নিজের কোষের ভেতরে প্যাথোজেনগুলোকে আশ্রয় দিয়ে জীবাণুনাশক থেকে রক্ষা করে এবং পানীয় জলের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়াটিকে বিজ্ঞানীরা ‘ট্রোজান হর্স এফেক্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এই তাপ-সহনশীল অ্যামিবাগুলো এখন এমন সব অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে যেখানে আগে এদের দেখা মিলত না। বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত জলাশয়গুলো থেকে সংক্রমণের হার বাড়ায় অনেক দেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় গবেষকরা পরিবেশ বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য এবং জল ব্যবস্থাপনা—সবকটি বিভাগকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। সঠিক নজরদারি, উন্নত ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম এবং আধুনিক জল পরিশোধন প্রযুক্তির মাধ্যমেই কেবল এই অদৃশ্য ঘাতকের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।


