বিনোদন

Malaika Arora: ‘কুড়ি পেরোলেই বুড়ি’ ধারণাকে বুড়ো আঙুল! জন্মদিনে মালাইকার ফিট থাকার কঠোর রুটিন

মালাইকার ফিটনেস রহস্যের মূলে রয়েছে তাঁর কঠোর ওয়ার্কআউট রুটিন।

Truth of Bengal: তিনি বলিউডের অন্যতম সেরা ফিটনেস আইকন। যাঁর ছিপছিপে শরীর এবং গ্ল্যামার আজও বহু তরুণীর কাছে ঈর্ষার বিষয়। আজ, ২৩ অক্টোবর, মালাইকা অরোরা (Malaika Arora) তাঁর ৫২তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। যেখানে সমাজে প্রায়শই বলা হয় ‘কুড়ি পেরোলেই বুড়ি’, সেখানে ৫২ বছর বয়সেও মালাইকা যেন সেই ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলেছেন। এই বয়সেও তাঁর টোনড ফিগার, সৌন্দর্য এবং অফুরান এনার্জির পেছনের রহস্য কী? এটি নিছক কোনো জাদু নয়, বরং কঠোর শৃঙ্খলা, সুষম খাদ্যভ্যাস এবং একটি নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাত্রার ফল।

মালাইকার ফিটনেস রহস্যের মূলে রয়েছে তাঁর কঠোর ওয়ার্কআউট রুটিন। তিনি সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে বেশি জোর দেন যোগাভ্যাসের উপর। এটি শুধু শরীরের নমনীয়তা এবং মাংসপেশিকে মজবুত করে না, মানসিক স্বাস্থ্যকেও উন্নত করে। তাঁর প্রতিদিনের রুটিনে সূর্য নমস্কার বিশেষ গুরুত্ব পায়। যোগার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত পিলাটেস করেন, যা শরীরের কোর মাসল, ভারসাম্য এবং সঠিক ভঙ্গি উন্নত করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, ক্যালোরি ঝরানো এবং চর্বি কমানোর জন্য তিনি হাই ইন্টেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং, ডাম্বল স্কোয়াট ও অন্যান্য কার্ডিও এক্সারসাইজও করেন। তলপেট, কোমর এবং উরুকে ঝরঝরে রাখতে কোর-স্ট্রেংথ অনুশীলনে তাঁর বিশেষ মনোযোগ থাকে।

শারীরিক গঠনের জন্য মালাইকা একটি অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক খাদ্যভ্যাস মেনে চলেন। তিনি এক দিন অন্তর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করেন এবং হজম ও মেটাবলিজম উন্নত রাখতে সন্ধ্যা ৭টার পর কোনো খাবার গ্রহণ করেন না। দিন শুরু হয় ডিটক্স পানীয় দিয়ে— উষ্ণ জল, লেবু ও মধু, বা জিরা জল, অথবা তাঁর জনপ্রিয় ‘এবিসি জুস’ (আপেল, বিটরুট, গাজর) দিয়ে। প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন তিনি। বাড়িতে রান্না করা সাধারণ খাবার (ভাত, রুটি, ডাল, সবজি) তিনি পরিমিত পরিমাণে খান। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজেকে অভুক্ত না রেখে সঠিক পরিমাণে সব খাবার খাওয়া উচিত। মালাইকা দেশি ঘি-কে ‘সুপারফুড’ হিসেবে মানেন এবং সকালে গরম জলের সঙ্গে ঘি খেতে পছন্দ করেন।

কেবল শারীরিক কসরত নয়, মানসিক শান্তিকেও তিনি সমান গুরুত্ব দেন। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে। এছাড়াও, শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার ও সতেজ রাখতে তিনি সারা দিন প্রচুর পরিমাণে জল পান করেন এবং ‘ওয়াটার থেরাপি’তে বিশ্বাসী। শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি মন ও শরীরের সঠিক সংযোগ বজায় রাখতে তিনি নিয়মিত ধ্যান করেন। মালাইকা অরোরা প্রমাণ করেছেন, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র, যদি সঠিক শৃঙ্খলা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।

Related Articles