Trans Inclusion: বৃহন্নলা সম্প্রদায়: সম্মানজনক জীবনের সন্ধানে
প্রভাত কুমার মিত্র: সমাজের মূল স্রোতধারার বাইরে একটি জনগোষ্ঠী বছরের পর বছর ধরে বেঁচে আছে, যাদের আমরা বৃহন্নলা বা হিজড়ে নামে চিনি। জন্ম থেকেই তাদের দেখেছি বাড়িতে নবজাতকের জন্ম হলে হাজির হতে, টাকা দাবি করতে, কিংবা ট্রেন, বাস, রাস্তায় নাচ-গান করে অর্থ উপার্জন করতে। এ দৃশ্য আমাদের সমাজের এক চির চেনা ছবি। অথচ এই কাজগুলো তাদের ইচ্ছার ফল নয়, বরং সমাজের বঞ্চনা ও অবহেলার নির্মম পরিণতি (Trans Inclusion)।
বৃহন্নলা সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষ জন্মগতভাবে লিঙ্গ বৈচিত্র্যের শিকার। সমাজ, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের কখনও আপন করে নেয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা প্রথাগত কিছু পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে বেঁচে থাকার পথ খুঁজে নিয়েছে। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন বিশ্বজুড়ে লিঙ্গ বৈচিত্র্যের প্রতি সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। আমাদের দেশেও হিজড়ে সম্প্রদায়কে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাই এই জনগোষ্ঠীকে পুনর্গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং তাদের জন্য সম্মানজনক পেশার সুযোগ করে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন (Trans Inclusion)।
আরও পড়ুন: Bihar shootout: ফের বিহারে প্রকাশ্যে গুলি! খুন বেসরকারি স্কুল মালিক
সম্ভাব্য গঠনমূলক পেশা
১. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ:
প্রথমত, তাদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলির উদ্যোগে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, কারুশিল্প, সেলাই, বিউটি পার্লার, রান্না প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
২. স্বনিযুক্তি প্রকল্প:
ছোট ছোট ব্যবসা যেমন খাবারের দোকান, হস্তশিল্প, অনলাইন পণ্য বিক্রি ইত্যাদিতে তাদের উৎসাহিত করা যায়। কিছু কিছু জায়গায় হিজড়ে সম্প্রদায়ের পরিচালনায় ক্যাফে, পার্লার ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। যা প্রশংসনীয়।
৩. স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা খাতে নিয়োগ:
হিজড়েরা সমাজসেবার কাজেও পারদর্শী হতে পারে। তারা স্বাস্থ্যকর্মী, বৃদ্ধাশ্রমে সহায়ক, শিশুদের স্কুলে সহযোগী কর্মী ইত্যাদি পেশায় যুক্ত হতে পারে।
৪. শিল্প-সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম:
অনেকে সৃজনশীলতায় পারদর্শী। তাই নাচ, গান, নাটক, চলচ্চিত্র, সমাজ সচেতনতামূলক প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
৫. সরকারি ও বেসরকারি চাকরি:
তৃতীয় লিঙ্গের জন্য সংরক্ষিত কোটা চালু করে সরকারি-বেসরকারি দফতরে চাকরির সুযোগ বাড়ানো উচিত (Trans Inclusion)।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/193NB43TzC/
তবে শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগ করলেই হবে না, প্রয়োজন সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন। আজও আমাদের অধিকাংশ মানুষের মনোভাব এই সম্প্রদায়ের প্রতি করুণাভিত্তিক বা অবহেলার। এ মানসিকতা ভাঙতে হবে। মিডিয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সমতাভিত্তিক মনোভাব গড়ে তোলা দরকার। বৃহন্নলা সম্প্রদায়ও মানুষ, তাদেরও সম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার আছে। সমাজ তাদের যে অবহেলা ও অসম্মানের চোখে দেখে এসেছে, সেই ধারণা বদলানোর এখনই সময়। গঠনমূলক কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতার মাধ্যমে বৃহন্নলাদের সম্মানজনক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তারা সমাজের বোঝা নয়, বরং সমান সুযোগ পেলে সমাজের সম্পদ হতে পারে (Trans Inclusion)।





