জ্যোতিরানি মালহোত্রার মতো ‘গদ্দার’-দের কোনও ক্ষমা নেই
There is no forgiveness for 'traitors' like Jyotirani Malhotra
Truth Of Bengal: ইন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়: পাক গুপ্তচর একজন ভারতীয় নারী। ভাবতেও অবাক লাগে, ছিঃ। যে দেশের মাটি তার রক্তে মিশেছে। যে দেশের জল হাওয়ায় সে বড় হয়েছে। জ্যোতিরানি মালহোত্রার মতো ‘গদ্দার’-দের কোনও ক্ষমা নেই। ঐশ্বর্য, প্রতিপত্তি, টাকার লোভে দেশ মাতৃকাকে বিক্রি? যে পাকিস্তানের জঙ্গীরা পহেলগাঁও-এ আমাদের ২৬জন নীরিহ মানুষকে খুন করেছে, সেইসব জঙ্গীদের সঙ্গ দিয়েছে জ্যোতি! কতবড় দেশদ্রোহী ভাবা যায়? এখানে থেকে, এখানে খেয়ে পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তি? সুন্দরী ইউটিউবার জ্যোতি নিজের জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে শেষে দেশ ও দেশবাসীর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা? দেশের ১৫০ কোটি মানুষ তা মেনে নেবে না।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হত্যাকান্ডের পর আমরা দেখেছি ভারতীয় নারী শক্তির দাপট। তাঁদের দাপটে পাকিস্তান তছনছ হয়ে গিয়েছে। একাধিক জঙ্গী ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। ৪০ জনের ওপর জঙ্গী খতম হয়ে গিয়েছে। পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তান কি দুরমুস করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এই জয় ভারতীয় সেনার জয়, এই জয় সাহসী দুই নারী সোফিয়া কুরেশি ও ব্যোমিকা সিং-এর জয়। আমরা ১৪০ কোটি মানুষ গর্বিত, আপ্লুত। অন্যদিকে ওই ইউটিউবার, নারী জাতির কলঙ্ক। যা নিন্দা করার ভাষা নেই। ভাবতে অবাক লাগে, যে, আমার দেশের একজন নারী, আমাদের শত্রু দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। হায়রে টাকা, হায়রে ঐশ্বর্য, হায়রে প্রতিপত্তি। পাকিস্তানের মতো জঙ্গী রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এটা তো প্রমাণিত যে, ওরা দেশের মানুষের রোটি-কপড়া-মকানের জন্য ওরা টাকা খরচ করেনা। টাকা খরচ করে জঙ্গীদের পিছনে আর জ্যোতিরানীর মতো গুপ্তচরদের পিছনে। ওরা আইএমএফ থেকে ঋণ নেয় জঙ্গী প্রশিক্ষণের জন্য। দেশের মানুষের উন্নতি সাধনের জন্য নয়। ওদের দেশের মানুষের খিদের জ্বালায় মৃতু হয়। তাই সারা বছর ধরে গৃহযুদ্ধ লেগেই আছে। ভাল কিছু সৃষ্টিতে ওরা নেই। ওদের স্বপ্ন, পরিকল্পনা, আকাঙ্খা শুধু ধ্বংস আর ধ্বংস।
এক একটা রক্ত মাংসে গড়া মানুষের চেহারায় ওরা মানবতাহীন রোবট। আর সেই পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব, মেলামেশাট এরকম হয়তো আরও অনেকে থাকতে পারে, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে। আমাদেরও সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। আবার যে নারী শক্তির জন্য ‘অপারেশন সিঁদুর’ জয় পেল, সেই নারী শক্তিকে সম্মান জানানোর পরিবর্তে কেউ অপমান করবে সেটাও মেনে নেওয়া যাবে না। সম্প্রতি বিজেপি শাসিত রাজ্য মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী বিজয় শাহ কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে যে, কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য। তবে কি বিজেপি জাতপাত ধর্মের বাইরে কি কিছু ভাবেনা? এ হেন প্রশ্নই উঁকি দিচ্ছে রাজনীতির আঙিনায়। তাছাড়া এ ব্যাপারে বিজেপির দিল্লির নেতৃত্বের মুখেই বা কুলুপ আঁটা কেন? আর বাংলার বিজেপি নেতৃত্ব, তাঁদের গুনে তো আর নুন দিতে নেই। আরেক সাংবিধানিক পদে থেকে এহেন কুরুচিকর মন্তব্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। যদিও বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির তোপের মুখেও পড়তে হয়েছে শাহকে। মহামান্য আদালত বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের ও তো এক্ষেত্রে ভূমিকা থাকা উচিত। নাকি তিনি বিজেপির দলের মন্ত্রী বলে দেশদ্রোহীর মতো মন্তব্য করলেও ছাড়? প্রশ্ন তো উঠবেই। মানুষ জানতে তো চাইবেই। আমাদের দাবি দেশদ্রোহীরা যেন ছাড় না পায়। আবার এটাও দেখতে হবে যে ক্ষমতার অলিন্দে থেকে কেউ যেন ক্ষমতাকে ঢাল করতে না পারে অন্যদিকে এদেশের মাটিতে আরও কেউ চরবৃত্তি করতে না পারে। বিষয়টাকে হালকাভাবে নিলে হবেনা। আর কেউ থাকলে খুঁজে বের করতে হবে।






