সম্পাদকীয়

Alleged Media Bias: পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণ হয়! অন্যরাজ্যের ঘটনাগুলি কী?

গত চার অক্টোবর রাতে গুজরাটে এই যে এক নাবালিকাকে অপহরণ করে লাগাতার ধর্ষণ করা হল, সেই ব্যাপারে পিন ড্রপ সাইলেন্স কেন?

জয়ন্ত চক্রবর্তী: পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা নাকি বাড়ছে– আরজি কর-এ মহিলা চিকিৎসক ধর্ষিত হয়ে খুন হওয়ার পর গোটা ভারত সরব হয়েহিল, কসবা আইন কলেজের ঘটনাতেও তাই। ধর্ষণ অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এই অপরাধের জন্য কোনও সাজাই যথেষ্ট হতে পারে না। সারা ভারতের বিরূপ প্রতিক্রিয়াও স্বাভাবিক ঘটনা। ঢিল মারলে পাটকেল খেতেই হয়। কিন্তু, ভাবতে অবাক লাগে যে পশ্চিমবঙ্গে কোনও নারী নিগ্রহের খবর পেলেই ভারত ফুঁসে ওঠে। অন্য রাজ্যে যখন ধর্ষণের মতো নিন্দনীয় ঘটনা ঘটে, তখন নিশ্চুপ হয়ে থাকে। গত চার অক্টোবর রাতে গুজরাটে এই যে এক নাবালিকাকে অপহরণ করে লাগাতার ধর্ষণ করা হল, সেই ব্যাপারে পিন ড্রপ সাইলেন্স কেন? এমনকী সর্বভারতীয় মিডিয়াও নীরব। কাক সচরাচর কাকের মাংস খায় না। মিডিয়ার এই স্তব্ধতা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। যে সঞ্চালকরা পশ্চিমবঙ্গে (পড়ুন কলকাতা) একটা পিন পড়লেও চিৎকার করে পাড়া মাথায় করেন, তাঁরা নীরব থাকেন গুজরাটের ঘটনায় (Alleged Media Bias)।

মধ্য প্রদেশে সম্প্রতি বিশ্বকাপ খেলতে আসা অস্ট্রেলিয়ার দুই তরুণী ক্রিকেটার একটি সাইবার ক্যাফেতে যাওয়ার সময় যৌন নিগ্রহের শিকার হলেন। তা নিয়ে মিডিয়ায় সেই ভাবে হইচই হল কী! এই যে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দুনিয়ার কাছে ভারতের মাথা হেঁট হল, এই নিয়ে রাত জাগল না তো ভারত! আসলে পশ্চিমবঙ্গে যা ধর্ষণ তা অন্য রাজ্যে, বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যে নিছক ‘আদর’ ছাড়া কিছু নয়! কেউ কাউকে আদর করলে কার কী বা বলার থাকে? তাই, মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলায় এক মহিলা চিকিৎসক ধর্ষণের পর আত্মঘাতী হলে সর্বভারতীয় স্তরে একটি বুদবুদ ওঠোর পরই তা মিলিয়ে যায়। যেহেতু ঘটনা কলকাতার আরজি কর হাসপাতাল কিংবা কসবা আইন কলেজে ঘটেনি তা হলে তাই নিয়ে এত হইচই করার কী আছে! তা ছাড়া আদরের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে মহিলা চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন। এক্ষেত্রে মিডিয়াও কেন সরব হবে? অস্ট্রেলিয়ার দুই মহিলা ক্রিকেটারের বিদেশ বিভূঁইতে সাইবার ক্যাফেতে যাওয়ার কী দরকার ছিল? নির্জনে দুই বিদেশি যুবতীকে দেখে মধ্য প্রদেশের যুবকের তাদের আদর করার ইচ্ছা তো জাগতেই পারে! তা হলে (Alleged Media Bias)?

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির মোহন যাদব নিশ্চয়ই ওই যুবককে বলে দেননি, ‘ওহে বাপু, দুই অস্ট্রেলিয় তরুণী সাইবার ক্যাফেতে যাচ্ছে ওদের একটু ‘আদর-টাদর’ করে এস, কিংবা মহারাষ্ট্রের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশও নিশ্চয় নির্দেশ দেননি সাতারার মহিলা চিকিৎসকে ‘আদর’ করার। তা হলে নিশ্চয়ই জাস্টিস চেয়ে আন্দোলনকারীরা পথে নামতেন। অবস্থানে বসতেন। কই, তা তো হচ্ছে না। বরং সবাই যেন ঢোক গিলে নিচ্ছেন! বিজেপি শাসিত রাজ্যে যেন ধর্ষক শব্দটি কেউ শোনেনি! তাই বলি, অন্য রাজ্যে ধর্ষণ হয় না, হয় আদর। বড়জোর অনাকাঙ্ক্ষিত আদর। আর পশ্চিমবঙ্গের নড়খাদকরা ধর্ষণ করার জন্যে যেন বসেই আছে। কল্পনার সুতো মেলুন, কলকাতায় খেলতে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মহিলা দল। সদর স্ট্রিট-এর কাছে সাইবার ক্যাফেতে যাওয়ার সময় দুই ক্রিকেটারের শ্লীলতাহানি হল। সঙ্গে সঙ্গে কি সমুদ্রে তরঙ্গ উঠত না? বিশ্বের দরবারে ভারতের মাথা হেঁট করে দেওয়ার অভিযোগ কি উঠতো না কলকতার নামে! সব ব্যাটাকে ছেড়ে দিয়ে বেড়ে ব্যাটাকে ধর। মমতা বন্দোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তোলার এই সুযোগ কী ছেড়ে দিত বিরোধীরা (Alleged Media Bias)?

Related Articles