বাংলা গদ্যের প্রথম যুগের রচনা করেছিলেন, স্মরণে সজনীকান্ত দাস
তাঁর রচিত 'বাঙ্গালা গদ্যের প্রথম যুগ' বাংলা গদ্যের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
ডঃ মনোরঞ্জন দাস: ইতিহাসের সাজুয্যে দেশ, কাল, আচার আর তার সম্পৃক্তায়নে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সমসাময়িকতার অঙ্গনে নানা ভাব-প্রভাবের অধ্যায়ে একাকারবাহী হয়ে উদ্ভাবন ধারায় সম্পৃক্ত হয়। সজনীকান্ত হলেন এমনই ঘরানার এক ঊজ্জ্বল জ্যোতিস্ক। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক ও সমালোচক, যিনি মূলত ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় তার বিচরণ ছিল এবং তীব্র, হাস্যরসাত্মক সমালোচনার মাধ্যমে তিনি সমকালীন সাহিত্য আন্দোলনে প্রাণ সঞ্চার করেন।
সজনীকান্ত দাস একজন কবি এবং উল্লেখযোগ্য প্রাবন্ধিকও ছিলেন, যাঁর গদ্যের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ, তাঁর জীবন ও সাহিত্য ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি তীব্র অথচ হাস্যরসাত্মক সমালোচনা করে সমকালীন সাহিত্যকে প্রভাবিত ও সমৃদ্ধ করেছিলেন। তাঁর সমালোচনামূলক লেখাগুলি সাহিত্যে বিতর্ক সৃষ্টি করলেও অনেক ক্ষেত্রে তাকে ‘নিন্দিত ও নন্দিত সমালোচনা’র জন্য স্মরণ করা হয়। তাঁর রচিত ‘বাঙ্গালা গদ্যের প্রথম যুগ’ বাংলা গদ্যের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
সজনীকান্ত দাস তাঁর সমালোচনামূলক লেখার মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্য আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর লেখনির ধারালো ও ব্যঙ্গাত্মক ভাষা সমসাময়িক সাহিত্যিকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তিনি শুধু কবি বা সম্পাদক ছিলেন না, বরং সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবদান রাখার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছিল।
তীব্র ও ব্যঙ্গাত্মক লেখার জন্য তিনি বিতর্কিত ব্যক্তিত্বও ছিলেন, যা তাঁর সমসাময়িকতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। সংক্ষেপে, সজনীকান্ত দাস ছিলেন এমন একজন সাহিত্যিক যিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের গতিপথকে প্রভাবিত করেছিলেন এবং নিজে এক বিতর্কিত, অথচ গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বাবার চাকরিসূত্রে মালদা, বাঁকুড়া, পাবনা, দিনাজপুর থাকতে হয়েছিল তাঁদের।
প্রকৃতপক্ষে সাপ্তাহিক হিসাবে ‘শনিবারের চিঠি’র আত্মপ্রকাশের পর পরই সজনীকান্ত ‘শনিবারের চিঠি’র সঙ্গে যুক্ত হন। অষ্টম সংখ্যায় ‘ভাবকুমার’ ছদ্মনামে সজনীকান্তের কবিতা প্রকাশিত হয়। কবিতার শিরোনাম ‘আবাহন’। কবি সজনীকান্ত দাস বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সমালোচক সজনীকান্ত দাস ১৯০০ সালে ২৫ আগস্ট অবিভক্ত বর্ধমান জেলার বেতালবন গ্ৰামের মাতুলালয়ে, পিতা হরেন্দ্রলাল ও মাতা তুঙ্গলতা’র কোল আলো করে পৃথিবীতে আসেন।
তাঁর রচিত ‘বাঙ্গালা গদ্যের প্রথম যুগ’ বাংলা গদ্যের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সজনীকান্ত দাস তাঁর সমালোচনামূলক লেখার মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্য আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর লেখনির ধারালো ও ব্যঙ্গাত্মক ভাষা সমসাময়িক সাহিত্যিকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তিনি শুধু কবি বা সম্পাদক ছিলেন না, বরং সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবদান রাখার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছিলেন। তীব্র ও ব্যঙ্গাত্মক লেখার জন্য তিনি বিতর্কিত ব্যক্তিত্বও ছিলেন, যা তাঁর সমসাময়িকতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
সজনীকান্ত দাস ছিলেন এমন একজন সাহিত্যিক যিনি তাঁর লেখনির মাধ্যমে সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের গতিপথকে প্রভাবিত করেছিলেন এবং নিজে এক বিতর্কিত, অথচ গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি ছিলেন। সজনীকান্ত কবি, সমালোচক, প্রাবন্ধিক, গীতিকার এবং প্রাচীন বঙ্গসাহিত্যের গবেষক হিসাবে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি ‘কামস্কাটকীয় ছন্দ’ কবিতা প্রকাশ করে বাংলা ব্যঙ্গ সাহিত্যে অবতীর্ণ হন। অন্যের রচনার ত্রুটি আবিষ্কার করতে থাকেন।
তিনি প্রথম আক্রমণ করেন নজরুলকে। রবীন্দ্রনাথ-সহ খ্যাতিমান আধুনিক কবি ও ঔপন্যাসিক তার সমালোচনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু সাহিত্য নয়, সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রের সমস্যা সম্পর্কেও তিনি সমালোচকের ভূমিকা নিতেন এবং এতে তার নিজের প্রতিভার অনেকটাই অপচয় হয়েছিল। চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা হিসাবে তাঁর যথেষ্ট সুনাম ছিল। কবি হিসাবেও তাঁর পরিচিতি ছিল।
ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের গবেষণার ক্ষেত্রেও তিনি উৎসাহী ছিলেন। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাংলা গদ্যের প্রথম যুগ রচনা করেন এবং এটি প্রামাণ্য ইতিহাস হিসাবে গৃহীত হয়। সাহিত্য পরিষদের সাহিত্যসাধক-চরিতমালা-সহ বহু গ্রন্থ ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি যুগ্মভাবে সম্পাদনা করেন।






