সম্পাদকীয়

BCCI-এর এক বড় মিঠুন মানহাস, আগে কখনও নাম শুনেছেন?

এহেন মিঠুন মানহাস রাতারাতি ভারতীয় ক্রিকেটের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে গেলেন।

জয়ন্ত চক্রবর্তী: হলফ করে বলতে পারি যে এই নামটি আপনি আগে কখনও শোনেননি। আইপিএল-এ হাজার হাজার ক্রিকেটার খেলে থাকে। তাদের প্রত্যেকের নাম কি আপনার মনে থাকে? এক একটা আইপিএল শেষ হওয়ার পর কিছু নাম আমাদের মনের মনিকোঠায় সযত্নে রক্ষিত হয়ে যায়। যেমন অভিষেক শর্মা, বেঙ্কটেশ আয়ার, রিঙ্কু সিং কিংবা নীতিশ রানা– এই নামগুলি। স্মৃতি হাতড়ে দেখছি কোথাও কোনও ভুল হচ্ছে কিনা। মিঠুন মানহাস নামটি কি আগে কখনও শুনেছি?

তিনি তিনটি দলের হয়ে তিনটি আইপিএল খেলেছেন। শেষ আইপিএল খেলেছেন নাকি এমএস ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস-এর হয়ে। কিন্তু আইপিএলে মারকাটারি ব্যাটিং কিংবা বোলিং করেছেন- এমন অভিযোগ তাঁর দুর্জনরাও করতে পারবেন না। জম্মু ও কাশ্মীরের হয়ে মাঠে নেমেছেন। অবশেষে দিল্লির হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছেন। তাঁর নামের পাশে এমন রেকর্ড নেই যা তাঁকে মনে পড়িয়ে দেবে। তিনি প্রয়াত রমন লম্বা বা কীর্তি আজাদ নন যে তাঁকে মনে রাখতে হবে। জম্মু ও কাশ্মীরের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতেও তাঁর বিশেষ কোনও অবদান নেই। দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস, পুনে ওয়ারিয়র্স এবং চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএল খেলেছেন। এর মধ্যে দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস আর পুনে ওয়ারিয়র্স তো উঠেই গেছে। বাকি রইল চেন্নাই সুপার কিংস। এই আইপিএল দলে নিয়মিত জায়গাও পাননি এই ডান হাতি ব্যাটার কিংবা ডানহাতি অফ ব্রেক বোলারটি। জীবনে ১৫৭টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে করেছেন ৯২১৪ রান।

ব্যাটিং গড় ৪৫-এর কিছু বেশি। মিঠুন মানহাস কোনওদিন নির্বাচকদের নজর কাড়তে পারেননি। তাই ভারতীয় দলের জার্সি গলানোর সুযোগ পাননি। এহেন মিঠুন মানহাস রাতারাতি ভারতীয় ক্রিকেটের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে গেলেন। মুম্বইতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-এর যে অ্যানুয়াল জেনারেল মিটিং বসেছিল ২৮ সেপ্টেম্বর সেখানে মিঠুন মানহাসকে বোর্ড সভাপতির আসনে বসানো হয়। মিঠুন কিছুদিনের জন্যে ক্রিকেট প্রশাসন চালিয়েছেন- এটাই তাঁর একমাত্র যোগ্যতা! উহু, আরও একটি যোগ্যতা আছে তা হল দেশ যারা চালাচ্ছে সেই বিজেপির ঘনিষ্ঠ হলেন মিঠুন মানহাস। ভারতীয় ক্রিকেটের কিং মেকার, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কিংবা তাঁর সুযোগ্য পুত্র, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের ঘনিষ্ঠ হওয়াটা বাড়তি কোয়ালিফিকেশন নয়? তা হলে মিঠুন মানহাসের সভাপতির চেয়ারে বসতে অসুবিধা কোথায়!

২৮ সেপ্টেম্বরের ঢের আগে আহমেদাবাদে একটা ডিনার ডেকে অমিত শাহ কি বলে দেননি– দেখো বাপু, মিঠুন মানহাস আমার ক্যান্ডিডেট। ওর সভাপতি হওয়ার পথে কেউ কাঁটা বসাতে যেও না! ভগবানের ইচ্ছা– এরপর কি আর কোনও কথা চলে? মিঠুন মানহাস বিশ্বের সব থেকে ধনী ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি হয়ে গেলেন। কাঁটা কি দু-একটা ছিল না? ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন, ভারতীয় দলের স্পিনার হরভজন সিং ছিলেন। কিন্তু এই কাঁটাদের হয়ে গলা ফাটাবার কেউ ছিল না।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বোর্ড সভাপতি হয়ে বিজেপি-র পশ্চিমবঙ্গের মুখ হয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বেন– এমন গ্যারান্টি কে নেবেন? অতএব সৌরভের বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তির কথা বলে স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরে ওকে বাদ দিয়ে দাও। হরভজন সিং স্পষ্ট বক্তা। অমিত শাহদের ইয়েস ম্যান হবেন না! তাই ওকে বাদ দাও টেলিভিশনের চুক্তির কথা তুলে। কবে আর কে দেখেছে যে বোর্ড সভাপতি মাইক নিয়ে খেলোয়াড়দের পিছু পিছু ছুটছেন? অতএব হরভজনকে বাদ দাও এই ধুয়ো তুলে। রজার বিনি বোর্ড সভাপতির পদ ছাড়ার পর যিনি অস্থায়ী ভাবে বোর্ড সভাপতির পদ সামলেছেন, সেই কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লার দিকে বোর্ড সহ সভাপতির ললিপপ ছুড়ে দাও। পদলোভী রাজীব শুক্লা ঠান্ডা হয়ে যাবে। মিঠুন মানহাস এর ডেক পরিস্কার হয়ে যাবে। ভারতীয় ক্রিকেট নামক সোনার রাজহাস টিকে কি ছাড়া যায়? ভারতের আমজনতা যে ক্রিকেট এ বুঁদ হয়ে আছে!

আমজনতা  কে নিয়েই তো বি জে পির পথ চলা। তাই ইয়েসম্যান মিঠুন মানহাসই বোর্ড সভাপতি হওয়ার যোগ্যতম! সাধে কি আর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ২৮ সেপ্টেম্বর বোর্ড এর সভায় যাননি! অন্তত তেতো বড়ি গেলার মত মিঠুন মানহাস কে গিলে নেওয়া অসাধাই হত মহারাজের পক্ষে!অবশ্য সভায় না গেলেও ভবিষ্যতে সি এ বির সভাপতি হিসেবে মিঠুন মানহাসর  ফরমান মানতে বাধ্য থাকবেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়!ক্রিকেট মাঠে কোনোদিন যা হয়নি তাই হবে প্রশাসন এর মাঠে। একজন আখ্যাত ক্রিকেট খেলোয়াড় এর নির্দেশ অনুযায়ী চলবেন ভারত অধিনায়ক! আফটার অল রাজার প্রার্থী বলে কথা!

Related Articles