সম্পাদকীয়

Don’t give up: হারলেও লড়াই ছাড়বেন না

আর এক্ষেত্রে বলবো আগে সেই বিশ্বাসটাই মনে আনতে হবে যে আমি পারি

বাবুল চট্টোপাধ্যায়: প্রাবন্ধিক: শিরোনামটা এমনই দিলাম। বিষয়টি সকলেরই চেনা। তাই সকলেরই অনুভূতিতে পৌঁছতে চাই। আপনি আমি জানিই না আমরা কী পারি আর কী পারি না। কিম্বা কতটা পারি, কতটা নয়। অনেকে অনেক কিছু আগে থেকে বুঝতে পারেন। তাদের কথা না হয় আজ বাদই দিলাম। কারণ তাদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থাকে। যাকে আমরা ইংরেজিতে ওভার সেল্ফ কনফিডেন্স বলে থাকি। অবশ্য এই অভ্যাস সবার নয়। অতিরিক্ত না হলেও সাধারণ বিশ্বাসের ধারণা থেকে একটু সরে গেলে থাকে চরম বিপদ। অনেক কিছু সমস্যা। যারা চরম আত্মবিশ্বাসী তাদের না হয় একটু আলাদা সরিয়ে আলোচনা করি সাধারণদের নিয়ে (Don’t give up)।

এখানে তাদের কথা বলছি, যারা কিনা মনে করেন যে মাথার উপর রাজনীতির হাত না থাকলে কোনও কাজ করা বা সাকসেস পাওয়া সম্ভব নয়। এমনটা কিন্তু সব ক্ষেত্রে হয় না। আপনি আমি সেটা কিছুটা মানলেও সম্পূর্ণ বিশ্বাস করতে পারি না। আর এক্ষেত্রে বলবো আগে সেই বিশ্বাসটাই মনে আনতে হবে যে আমি পারি (Don’t give up)। আর আমিই পারি। একেবারে ছোটবেলা থেকেই এই ধারণাটা মাথায় ঢুকে গেছে যে আমাদের পড়াশুনো করে কী লাভ! অনেকেই বলবে অমুকের হয়নি তমুকের হয়নি ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এতে ঠিক মদত দেওয়ার লোকও জুটে যায়। বরং এই ধারণার লোককে তেমন দেখা যায় না যে কিনা বোঝাবে পড়াশুনো না করেই বা কী লাভ। পারলে বোঝান না পড়াশুনো না করে বেকার থাকা থেকে পড়াশুনো করে বেকার থাকা অনেক সম্মানের। অন্তত পড়াশুনোর মান মর্যাদা সে সারা জীবন পাবে। সে যদি পাগলও হয় তবুও তাকে লোকে শিক্ষিত পাগল বলেই জানবে। বলবো, আপনি আপনার মতো বলতেই পারেন কিন্তু সত্য কী সেটাই আসল কথা। আর ওই সব ধ্যানধারণা থেকেই বোধহয় সরস্বতী মন্দির খুব একটা দেখা হয় না। মনে হয় শনিতে আছে ভয় আর সরস্বতীতে তো সম্মান হয়- বাকিটা বুঝে নিতে হয়।

এখন প্রশ্ন হল, ভিতই যদি নড়বড়ে হয় তবে বাকিটা ভঙ্গুর হওয়া রোখে কে। ধরেই নিলাম যা আছে তাই নিয়ে চলতে হবে। যা আছে সেটাকে যদি ঠিকঠাক কাজে লাগানো যায় তাতেই বাজিমাত করা যায়। আর উন্নত মেধা থাকলে কোনও কথা হবে না। তবে সব ক্ষেত্রে লাগে নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাস। যা আছে তাই দিয়ে যদি ভালভাবে জড়িয়ে থাকা যায় তবে কুড়িয়ে লাভ কী। আপনি আমি সেটা সকলেই ভালভাবে জানি। কিন্তু তবু পারি না। কেন পারি না কারণ আমরা সব কিছু সহজেই পেতে চাই। তার জন্যে যে ন্যূনতম পরিশ্রম লাগে সেটাকে বেমালুম ভুলে যাই। এটাই আমাদের সমস্যা। আমরা খুব তাড়াতাড়ি সাফল্য পেতে চাই। কিন্তু কী জানেন, সাফল্যের কোনো শর্ট কাট নেই।

[আরও পড়ুনঃ বসিরহাটে তৃণমূল কর্মীকে খুন! তদন্তে পুলিশ]

আপনি চাইলেও তা করতে পারবেন না। আপনাকে যা করতে হবে তা ভালবেসে করতে হবে। প্রকৃত ভালবাসা না থাকলে কোনও কিছুতেই সাকসেস পাওয়া যায় না। আমি মধ্যম মানের মেধা নিয়ে কথা বলছি। এক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রায় সকলে হারার আগে হেরে বসে আছে। কিন্তু তা ভাবলেও চলবে না। করা তো আরও পরের কথা। অন্তত জীবনে পিছিয়ে পড়ার একটা ভয়ংকর সম্ভাবনা থেকেই যায়। আসলে আপনি ঠিক জানেনই না আপনি কী পারেন আর কী পারেন না। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পাশ ফেল’ গল্পে আমরা অনেকেই পড়েছি। সেখানে দেখেছি কীভাবে জীবন একজন পাশ করা ছেলে ফেল করা ছেলের কাছে জীবনে হেরে গেল (Don’t give up)। কারণ যে আত্মবিশ্বাস ফেল করা ছেলেটার মধ্যে ছিল, পাশ ছেলেটার মধ্যে সেই অদম্য ইচ্ছাটা ছিল না। সুতরাং এটা বোঝা গেলো যে জীবনে হারা-জেতা নির্ভর করে মূলত আত্মবিশ্বাসের উপর।

[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal]

সব ক্ষেত্রে এটা সত্য যে আপনি যদি আত্মবিশ্বাসী না হন, তবে আপনার সবটাই বৃথা। কোনও ক্ষেত্রে আপনি কোনওভাবেই এগিয়ে থাকতে পারবেন না। তবে বিশ্বের ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন এই মাঝারি মানুষগুলোই জীবনে কেমন মাত করেছেন। এটা কম কথা নয়। আসলে আমাদের বিশ্বাসের উপরে জোর আনতে হবে। তবেই সাকসেস পাওয়া যায়। একটি হিন্দি মুভি বেরিয়েছিল ‘টুয়েলভ ফেল’। কী অসাধারণ মুভি। কী অসামান্য গল্প। একটা বারো ক্লাসের ফেল করা ছেলে কীভাবে আইপিএস হতে পারে তার গল্প। আপনার আমার ইচ্ছাটা যদি স্ট্রং থাকে তবে আপনাকে কেউ আটকাতে পারবে না। সে আপনি যত সামান্যই হোন না কেন। আমরা লড়াই করতে ভুলে গেছি। আমাদের মধ্য থেকে জেদ হারিয়ে গেছে। না, আমদের থেকে কোনওভাবেই জেদ হারালে চলবে না। জানবেন ভালর ঘরে ভগবানও বিরাজ করে। আর ভাল তখনই হাওয়া যায় যখন আপনি সৎ ও পরিশ্রমী হবেন। তাই লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবেন না। কেউ কিছু নিয়ে আসনি। আর কেউ কিছু নিয়ে যাবে না। তবু জীবন ও মরণের মাঝে যে ক’দিন বেঁচে থাকবো সেই ক’দিন ভালোভাবে বাঁচব না কেন? এই ভালোভাবে বাঁচার জন্যে দরকার শিক্ষা। আর প্রকৃত শিক্ষা লড়াই করতে জানে।

যে কোনও বড় মানুষের জীবন লক্ষ্য করলে জানতে পারবেন কী অপরিসীম সংগ্রাম তাদের জীবনে রয়েছে। কত ব্যর্থতা তাদের জীবনকে আরও শক্ত করে তুলেছে। আর সেই ভাবে তারা জীবনকে পাল্টেছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে তারা লড়াই থেকে সরে আসেননি বলে। আর এব্যাপারে যারা মনীষী তাদের তো আরও বিরাট সংগ্রামের ইতিহাস আছে। তাই তো তাদের জীবনের ইতিহাস পড়ানো হয়। আর আরও ভালভাবে মনীষীদের জীবনী গ্রন্থ পড়লে জানতে পারবেন কী অপরিসীম কষ্ট ও তার উত্তরণের পথ তারা আবিষ্কার করেছেন। স্বামীজি বলেছেন লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত লড়াই না থামানোর কথা। মা সারদা বলেছেন, ‘যে সয় সে রয়।’ অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে সকল মনীষী তাদের বাণীতে অসীম ধৈর্য্য ও লড়াইয়ের কথা বলেছেন। ওই সব বাণী মানলেও জীবনের অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে (Don’t give up)। তবে যারা জীবনের অল্পেতে হতাশ হলে পড়েন তারা যেন এটা কখনওই না ভাবেন যে জীবন এক জায়গায় থেমে থাকবে। জীবন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে সেটাকে কীভাবে চলবেন তা আপনার ব্যাপার। আমরা আমাদের সঠিক মেধাকে ঠিকমতো জানি না। জানবেন আমরা পারি। আর আমরাই পারি। লড়াই লড়াই আর লড়াই। থামা মানে জীবন শেষ। বাঁচুন প্রতিদিন। শপথ নিন প্রতিদিন। বিশ্বাস রাখুন প্রতিদিন। জানবেন একবার হারাতে জীবন থামে না। বরং আরও চ্যালেঞ্জ আসে। লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত চেষ্টা করতে হবে।