
The Truth of Bengal: কংসাবতী নদীর তীরে ছোট্ট একটা পাহাড়। শাল মহুয়ার জঙ্গলে ঘেরা সারেঙ্গার সেই বড়দি পাহাড়তলিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সঙ্গে চড়ুইভাতি করতে শীতকালে অনেকে আসেন। বাঁকুড়া জেলার একটি নতুন পর্যটনকেন্দ্র হল বরদি পাহাড়। এটি বাঁকুড়া জেলার সারেঙ্গা ব্লকের কংসাবতীর তীরে অবস্থিত একটি ছোট টিলা। স্থানীয়রা একেই বড়দি পাহাড় বলে। বাঁকুড়া থেকে রাইপুরের রাস্তায় পড়ে পিড়রগাড়ি মোড়। সেখান থেকে খাতড়া যাওয়ার রাস্তায় ছ’কিমি দূরে চুয়াগাড়া মোড়। ওই মোড় থেকে চার কিলোমিটার গেলেই পাওয়া যাবে নেতুরপুর পঞ্চায়েতের কালাপাথর গ্রাম লাগোয়া বড়দি পাহাড়। তার কোলঘেঁষে বয়ে চলেছে কংসাবতী নদী। নদীর তীরে কালাপাথর গ্রামে রয়েছে একটি ঝর্ণা। স্থানীয় মানুষের কাছে তা কালাঝর্ণা নামে পরিচিত।
বড়দিকে আসলে পাহাড় বলাটা ঠিক হবে না। কারণ বাঁকুড়া জেলার অন্য পাহাড়গুলির তুলনায় আয়তন এবং উচ্চতায় একেবারে নস্যি। শ দুয়েক ফুট উঁচু বড়দির চূড়ায় উঠতে পরিশ্রম নেই বললেই চলে। কিন্তু চূড়ায় উঠে নদীর দিকে গেলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। সবুজের গালিচা পাতা, তারই মাঝে এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে কংসাবতীর বিপুল জলরাশি। কাজলকালো জলে বড়দির ছায়া। পাথরের উপরে বসে এই দৃশ্য দেখতে দেখতেই কখন যে আপনার সময় কেটে যাবে আপনি তার টেরও পাবেন না।
পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে এখানে পায়ে হেঁটে পাহাড় দর্শনের জন্য চারচাকার গাড়ি ওঠার রাস্তাও তৈরি করা হয়েছে। এমনকি পর্যটকদের থাকার জন্য থাকার ঘর ও শৌচাগারের সুবন্দোবস্ত রয়েছে। এখানে শীতকালে পাহাড়ের নিচে পিকনিক করতে আসেন আশেপাশের গ্রামের বহু মানুষজন। তবে, শুধু স্থানীয়রাই নয় এখানে থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা থাকার জন্য উইকএন্ডে বহু দূর দূরান্তের পর্যটকেরাও আসেন এখানে। সেই তালিকায় পরেরবার আপনার নাম যোগ হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।






