কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া পরিবহন আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ট্রাক চালকদের, রণক্ষেত্র ডানকুনি
Protest truck drivers

The Truth of Bengal: কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া পরিবহন আইনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ট্রাকচালকরা ।রাস্তা অবরোধ করে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখালেন তারা ।ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ হুগলির ডানকুনি হাইওয়েতে । এদিন প্রায় দেড়শ ট্রাক চালক রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে, দীর্ঘক্ষণ ট্রাক চালকদের অবরোধের ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ডানকুনি হাইওয়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের ,প্রচুর গাড়ি ঘোড়া মানুষজন আটকে পড়েন এদিনের এই বিক্ষোভের জেরে। প্রথম দিকে পুলিশের সঙ্গে মীমাংসার জন্য আলোচনা শুরু হলেও ট্রাক চালকরা তাদের দ দাবীর পক্ষে অচল থাকেন এরপরই ময়দানে নামে পুলিশ ।শুরু হয় ব্যাপক লাঠিচার্জ, খন্ড যুদ্ধ বেঁধে যায় দু পক্ষের মধ্য গোটা হাইওয়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় , এদিনের ট্রাকচালকদের অবরোধের ব্যাপারে এক বিক্ষোভকারী শেখ আব্দুল জাফর জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার নতুন যে পরিবহন নীতি ঘোষণা করেছেন তাতে চালকদের গাড়ি চালানো এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে, কারন এই আইনে বলা আছে যদি ট্রাকের ধাক্কায় কোন মানুষের মৃত্যু ঘটে সে ক্ষেত্রে চালকের দশ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং পাঁচ লক্ষ টাকা ড্রাইভারকে জরিমানা দিতে হবে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই আইন কখনোই মানবো না।
তিনি বলেন আমাদের যে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে তাতে আমাদের দেশের অর্থনীতির বহুলাংসে নির্ভরশীল, কিন্তু দুর্ভাগ্য যারা দিনরাত পরিশ্রম করে সামান্য টাকার বিনিময়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিভিন্ন পণ্য, খাদ্য সামগ্রী সহ অন্যান্য জিনিসপত্র পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের জন্য কোন আইন নেই। যদি কোন ট্রাক চালকের যাত্রা পথে মৃত্যু হয় তাহলে তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরন দেবার কোন ব্যবস্থা নেই, এর উপর আমরা সামান্য যে পয়সা বেতন পাই তাতে আমাদের সংসার ঠিক মতো চলে না, এর উপর যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে আমাদের পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এই টাকা আমরা কোথা থেকে পাব, আমরা এই আইন কখনোই মানবো না আমাদের অবরোধ প্রতিরোধ চলছে চলবে । এদিনের এ রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী সিহাসিশ চক্রবর্তী জানিয়েছেন আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য হওয়া উচিত।
কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার পরিবহন সংক্রান্ত যে আইন করেছেন তাতে চালকদের কোন উপকার হবে না কারণ যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তাতে যদি কারো মৃত্যু হয় তাহলে চালকদের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে এর বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ হওয়া উচিত কিন্তু প্রতিবাদ করতে গিয়ে রাস্তা অবরোধের মতন ঘটনা যেন না ঘটান তাতে সাধারণ মানুষের অনেক অসুবিধা হয় এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মাধ্যম হচ্ছে ইভিএম, আগামী নির্বাচনে ইভিএমে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে মতদান করে এর বিরুদ্ধে সমুচিত জবাব দেওয়া উচিত। এদিনের গাড়িচালকদের অবরোধের বিষয় বলতে গিয়ে হুগলি জেলা রুরাল পুলিশের এসপি কামনাশিস সেন জানালেন আজ সকালে কিছু ট্রাক ড্রাইভার নতুন যে পরিবহন আইন হয়েছে সেই বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে ডানকুনি হাইওয়েতে জড়ো হয় আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করি যখন কিন্তু তাতে কোন ফল না হওয়ায় অবরোধ তুলতে সেই সময় আমরা অল্প লাঠিচার্জ করে তাদের ওখান থেকে সরিয়ে দিই, পাল্টা ওরা পুলিশদের দিকে আক্রমণ করার চেষ্টা করে এই ঘটনায় আমরা দশ বারো জনকে বিক্ষোভকারীকে আটক করেছি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


