
The Truth of Bengal: ২৫ অগাস্ট ওর জন্মদিন। জন্মদিনে কত কী করার ইচ্ছা ছিল তার মায়ের। সেই ইচ্ছে আর পূরণ হল না। আনন্দের বদলে বিষাদের ছায়া নেমে এল ঠাকুরপুকুরের সন্তানহারা পরিবারে। বেপরোয়া লরি কেড়ে নিল এক নাবালক পড়ুয়ার জীবন। কেড়ে নিল সৌরনীল সরকারের বাবা সরোজকুমার সরকারের জীবনও। এখন ছেলে আর স্বামীকে হারিয়ে সৌরনীলের মা এখন শোকে পাথর। চোখ জল কিছুতেই থামছে না। ঘটনার সূত্রপাত সকাল ৬টায়।বাবার সঙ্গে বড়িশা স্কুলে যাচ্ছিল সৌরনীল সরকার। সেসময় মাটিবোঝাই একটি লরি তীব্র গতিতে এসে ধাক্কা মারে সৌরনীল সরকার এবং তার বাবা সরোজকুমার সরকারকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় খুদে পড়ুয়ার। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তার বাবাকে। পরে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুর্ঘটনা ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বেহালা। ডায়মন্ড হারবার রোডে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়ায় বেহালা চৌরাস্তা সংলগ্ন রাস্তায়। বিক্ষোভও বিক্ষিপ্ত অশান্তির জেরে ওই এলাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল।ভাঙচুর করা হয় সরকারি বাসে। দেহ রাস্তায় ফেলে রেখে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয়রা। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের ভ্যানে। বেশ কয়েকটি সরকারি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। পুলিশের গাড়ি ও একটি বাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। যান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে বেহালা চৌরাস্তা চত্বরে বিক্ষোভ দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকে। ঘটনার জেরে স্তব্ধ হয়ে যায় ডায়মন্ড হারবার রোড। আটকে পড়ে একের পর এক গাড়ি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে নামনো হয় পুলিশ। নামে ব়্যাফও। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। সেই সময় পুলিশ ও ব়্যাফের সঙ্গে তুমুল বচসায় জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। শুরু হয় পুলিশি ধরপাকড়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইট। রক্ত ঝরে পুলিশের।
পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামলায়। ঘণ্টা দু’য়েক পর শিশুটির মৃতদেহ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের যে ভ্যান ও বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, দমকল এসে তা নেভানোর কাজ শুরু করে।পুলিশ পরে কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কিভাবে এই ঘটনা ঘটল তা জানার চেষ্টা করছে প্রশাসন।প্রশাসনিক তরফে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর কাছে জানতে চান, সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ কর্মসূচির মধ্যে কিভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল ? মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ বেপরোয়া গাড়ির নিয়ন্ত্রণ করতে সক্রিয় হয়েছে।ডায়মন্ডহারবার রোডে রয়েছে কড়া নজর। পুলিশ কমিশনার বিনীত কুমার গোয়েলের মতোই প্রশাসনের কর্তারা, পড়ুয়া ও তার বাবার অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। ঘটনার তদন্ত যেমন চলছে, চলছে বেপরোয়া যান নিয়ন্ত্রণ।কোণা এক্সপ্রেস ওয়ে থেকে লরির চালককে আটক করা হয়।আটক করা হয়েছে লরি টিকেও। শোকগ্রস্ত পড়ুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিবেশীরা।শোক প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের কর্তারা।






