কলকাতা

“এটা তো স্রেফ চা-বিস্কুট, ব্রেকফাস্ট-লাঞ্চ তো বাকি!”, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কেন বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

বিধানসভায় দুই নতুন বিধায়কের শপথগ্রহণ! নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর নিয়ে সোজা ধামাকা বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর

Truth of Bengal: বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন নন্দীগ্রামের জয়ী বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরের জয়ী প্রার্থী শাখারভ সরকার। সোমবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু দুই নবনির্বাচিত উপনির্বাচনের বিধায়ককে শপথ পাঠ করান। তাঁদের এই শপথগ্রহণের পর ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা ২০৭ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ২০৯-এ। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে দুই বিধায়ককে আন্তরিক অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও নতুন সদস্যদের বিজয়ার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বিধানসভার পবিত্র মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রেজিনগরে বিজেপির অভূতপূর্ব সাফল্য তুলে ধরে বিরোধীদের ‘সংখ্যালঘু বিরোধী’ তকমাকে নস্যাৎ করেন। তিনি জানান, রেজিনগরে অন্নপূর্ণা যোজনায় উপকৃত ৭০ হাজার মহিলার মধ্যে ৩৫ হাজারই সংখ্যালঘু পরিবারের। সেই রেজিনগরের ৩০০টি বুথের মধ্যে ২০০টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়া সত্ত্বেও সেখানে ৭৫ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে বিজেপি। একই সঙ্গে বিরোধী দলনেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে শুভেন্দু স্পষ্ট করেন কেন তিনি নন্দীগ্রামের আসন ছেড়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি ভবানীপুর ছাড়লে যাঁকে দু’বার হারিয়েছি, তিনি আবার উপনির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেয়ে যেতেন। তাই ওই বয়সে তাঁকে বিশ্রাম দিতে নন্দীগ্রামের দায়িত্ব হাসিরানি রথের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।”

ভাষণে নিজের প্রয়াত আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে সিবিআই তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। চাঁচাছোলা ভাষায় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমার সহযোগী হওয়ার অপরাধে চন্দ্রনাথকে খুন হতে হল। শুটার ও সুপারি কিলার-সহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। এখন শুধু জানা বাকি, ওই সুপারি কিলিংয়ের ২ কোটি টাকা কোথা থেকে এসেছিল? ক্যামাক স্ট্রিট, কালীঘাট নাকি ডায়মন্ড হারবার?” এই প্রশ্নের উত্তর পেলেই তদন্তের বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিনের সভা থেকে সাম্প্রতিক তিন উপনির্বাচনে ফলতায় বিজেপির বিপুল জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিরোধীদের একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নথিপত্র চুরির অভিযোগ নিয়ে সিআইডি তদন্তের ইঙ্গিত দেন তিনি। পরিশেষে চোরবাগান মণ্ডপ বিপর্যয়ে শোক প্রকাশ করে শুভেন্দু ঘোষণা করেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে সিটের (SIT) পেশ করা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট বিধানসভার টেবিলে জমা দেওয়া হবে এবং দোষীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।

Related Articles