কলকাতা

চোরবাগান কাণ্ডে SIT-এর তদন্ত, দ্বিতীয়বার ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক দল, 3D স্ক্যানারে খতিয়ে দেখা হল মণ্ডপ

দুপুর ১টা ৫ মিনিট নাগাদ ছয় সদস্যের SIT ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দলে ছিলেন তিন জন মহিলা ও তিন জন পুরুষ সদস্য

Truth of Bengal: চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের গতি বাড়াল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মণ্ডপের ভিতর ও বাইরের বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখেন SIT-এর সদস্যরা। তাঁদের পরিদর্শনের পরেই ফের ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ফরেন্সিক দল। এ দিন দ্বিতীয়বারের জন্য নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি অত্যাধুনিক 3D স্ক্যানারের সাহায্যে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করা হয়। দুপুর ১টা ৫ মিনিট নাগাদ ছয় সদস্যের SIT ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দলে ছিলেন তিন জন মহিলা ও তিন জন পুরুষ সদস্য। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ডিসি ডিডি-সহ পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা। প্রায় ১৯ মিনিট ধরে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শনের পর দুপুর ১টা ২৪ মিনিট নাগাদ ঘটনাস্থল ছাড়েন তদন্তকারীরা।

ঘটনার দিন মণ্ডপের ভিতরে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, আলো-বাতাসের ব্যবস্থা কেমন ছিল, মঞ্চ ও প্রতিমার সঙ্গে দর্শনার্থীদের দূরত্ব কতটা ছিল—সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। ভিড়ের চাপে কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা বুঝতে ঘটনার দিন ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালাচ্ছেন আধিকারিকরা। SIT-এর সদস্যরা চলে যাওয়ার দু’মিনিটের মধ্যেই, দুপুর ১টা ২৬ মিনিট নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ফরেন্সিক দল। ঘটনার দিন রাতেও মণ্ডপে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এ দিন ফের ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করেন তাঁরা। দুপুর ২টো নাগাদ ঘটনাস্থল ছাড়ে ফরেন্সিক দল। তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয় 3D স্ক্যানার। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মণ্ডপের কাঠামো, ভিতরের বিন্যাস এবং বিভিন্ন অংশের অবস্থান বিশ্লেষণ করে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। দর্শনার্থীদের চলাচলের পথ, ভিড়ের চাপ এবং মণ্ডপের ভিতরে কতটা জায়গা ছিল, তা বুঝতে এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মণ্ডপে ১৩৪ টন ক্ষমতার এসি, পর্যাপ্ত ছিল কি ভেন্টিলেশন?

চোরবাগান কাণ্ডে শ্বাসরোধের অভিযোগ সামনে আসায় মণ্ডপের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বায়ু চলাচলের পর্যাপ্ততা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সূত্রের খবর, মণ্ডপের ভিতরে মোট ১৩৪ টন ক্ষমতার এসি ব্যবস্থা ছিল। তবে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর তুলনায় এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।

ঘটনার দিন বিকেল থেকে মণ্ডপে কত মানুষের সমাগম হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত তথ্যও পুলিশের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। মণ্ডপের ভিতরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ছিল কি না, ভিড়ের পরিমাণের সঙ্গে এসি ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার সামঞ্জস্য কতটা ছিল—তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে সেই সমস্ত বিষয়।

সব মিলিয়ে, SIT-এর সরেজমিন তদন্ত, ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহ এবং 3D স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে চোরবাগান দুর্গাপুজোর মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ এবং দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।