মাঝআকাশে খুলে গেল এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের দরজা! ঢাকায় জরুরি অবতরণের পরেই কলকাতার প্রৌঢ়ার মৃত্যু
ঢাকার মাটিতে জরুরি অবতরণ কিন্তু শেষ রক্ষা হল না! কলকাতার প্রৌঢ়ার মৃত্যু ঘিরে দানা বাঁধছে রহস্য
Truth of Bengal: মাঝআকাশে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার এক রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন যাত্রীরা। ১২ হাজার ফুট উঁচুতে উড়ন্ত একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের দরজা আচমকা আংশিক খুলে যাওয়ায় চরম আতঙ্ক ছড়াল। তড়িঘড়ি বিমানটিকে বাংলাদেশের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হলেও শেষরক্ষা হয়নি। বিমান থেকে নামানোর পর কলকাতার এক প্রৌঢ়া রোগীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ঠিক কী কারণে মাঝআকাশে এমন যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটল এবং প্রৌঢ়ার মৃত্যুর আসল কারণ কী, তা নিয়ে ইতিমধ্যে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার দুপুর নাগাদ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি আগরতলা থেকে এক রোগী ও তাঁর আত্মীয়-চিকিৎসক-সহ মোট সাতজন যাত্রীকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। বিমানটি যখন প্রায় ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল, সেই সময়ই হঠাৎ ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বিমানের একটি দরজা আংশিক খুলে যাওয়ায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পাইলট ও যাত্রীদের মধ্যে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে আর কালবিলম্ব না করে পাইলট জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে অবিলম্বে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয় এবং দুপুর ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি নিরাপদে মাটিতে অবতরণ করে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নির্দিষ্ট এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের অবতরণের জন্য আগে থেকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি বা শিডিউল না থাকলেও, সম্পূর্ণ মানবিক কারণে বিমানটিকে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করতে সাহায্য করেছিল ঢাকা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিমানটি মাটিতে নামার পর পরই প্রৌঢ়াকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত ওই প্রৌঢ়ার নাম অঞ্জনা ভৌমিক (৫৪), যিনি কলকাতার বাসিন্দা বলেই জানা গিয়েছে। তবে মাঝআকাশে এমন ত্রুটি এবং জরুরি অবতরণের ধকল, নাকি শারীরিক অসুস্থতার চরম অবনতি, ঠিক কোন কারণে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে জানা যায়নি। বর্তমানে ওই প্রৌঢ়ার মরদেহ নিরাপদে কলকাতায় ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতীয় ও বাংলাদেশ প্রশাসনের তরফ থেকে উচ্চপর্যায়ের তৎপরতা শুরু হয়েছে।



