রিল বানাতে গিয়েই ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনা! চিংড়িহাটায় ‘রং তত্ত্ব’ উড়িয়ে দিলেন পুলিশ কমিশনার
রাতারাতি মুছে ফেলা হল ফ্লাইওভারের নতুন রং! চিংড়িহাটা কাণ্ডে মুখ খুলে কী বড় নির্দেশ দিলেন পুলিশ কমিশনার?
Truth of Bengal: উৎসবের মরশুমের আগে তিলোত্তমার রাস্তাঘাট ও উড়ালপুলগুলিকে নতুন রঙে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সুন্দর মেক-ওভারই যে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা ঘুণাক্ষরেও কেউ ভাবেননি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বৃষ্টিভেজা চিংড়িহাটা উড়ালপুলে একের পর এক বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছলে পড়ছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। নজিরবিহীন পদক্ষেপে রাতারাতি ফ্লাইওভারের ওপর থেকে সেই নতুন রং তুলে ফেলা হয় এবং গতি নিয়ন্ত্রণে বসানো হয় বিশেষ ব্লক ও ক্যাটস আই।
ঘটনার জেরে তীব্র বিতর্ক শুরু হলে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা স্পষ্ট জানান, বাইকগুলি কেবল রঙের জন্যই স্কিড করেছে, এমনটা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ হয়নি। তাঁর মতে, উড়ালপুলের ওই বিশেষ জায়গাটিতে একটি ধারালো বাঁক (শার্প বেন্ড) রয়েছে। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে এই ধরনের বাঁকে গাড়ি পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনা এড়াতে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে সিপি জানান, আগামী দিনে বৃষ্টি নামলে এই উড়ালপুলে দু’চাকা বা বাইক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে গড়িয়াহাট ফ্লাইওভারে এমন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক না থাকায় সেখানে কোনো সমস্যা নেই বলে স্পষ্ট করে দেন কমিশনার। এ ছাড়াও তিনি দাবি করেন, ইঞ্জিনিয়ারদের মতে ওই উড়ালপুলে অ্যান্টি-স্কিড পেইন্টই ব্যবহার করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, এই পুরো ঘটনা নিয়ে রাজ্যবাসীর উদ্বেগের কথা স্বীকার করে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, “সংশ্লিষ্ট দফতরের বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার জন্য। অনেকেই বলছেন, বিভিন্ন রঙের কারণে চালকদের চোখে সমস্যা বা দৃষ্টিবিভ্রম হতে পারে। যদি সেটাই মূল কারণ হয়, তবে অবশ্যই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুবিধাই আমাদের কাছে সবথেকে আগে।” প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত এই পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সাময়িকভাবে স্বস্তি মিললেও, উৎসবের মুখে ফ্লাইওভারের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে।





