ভাইঝি সেজে এসেই সোজা মমতার ওপর হামলা! ধৃত যুবতীর পরিচয় জানলে চোখ কপালে উঠবে
হাতে ছুরি নিয়ে কালীঘাটে ওত পেতে ছিল কে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আক্রমণ কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য!
Truth of Bengal: দুর্গাপুজোর তৃতীয়ার সন্ধ্যায় নিজের পাড়াতেই আক্রান্ত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের কালীঘাটের বাড়ির ঠিক সামনেই এক অপরিচিত তরুণীর মারাত্মক হামলার শিকার হলেন তিনি। অভিযোগ, পুজো উদ্বোধনে বেরোনোর সময় ওই তরুণী হঠাৎই তাঁর শাড়ি ধরে প্রবল টান মারেন এবং নেত্রীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার পরেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত লোকজন ও নিরাপত্তারক্ষীরা ওই তরুণীকে ধরে ফেলে পুলিশের হাতে তুলে দেন। রাতেই তাঁকে আটক করা হয় এবং বুধবার সকালে তাঁর আসল পরিচয় সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই তরুণীর নাম অনুসূয়া সাহা। তিনি কলকাতার নিউ আলিপুর এলাকার বাসিন্দা। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, অভিযুক্ত অনুসূয়া পেশায় একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। ২০১১ সালে পশ্চিম বন্দর থানা থেকে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তবে বিগত বছর খানেক ধরে তিনি কর্মক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বেপাত্তা ছিলেন এবং নিয়মিত ডিউটিতে যোগ দিতেন না। কিন্তু হঠাৎ করে চতুর্থীর প্রাক্কালে কেন তিনি এমন হিংসাত্মক ঘটনা ঘটালেন, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। ঠিক কী কারণে মমতার ওপর এই ক্ষোভ, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও গভীর রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। দিল্লির রাজনৈতিক কর্মসূচি সেরে সোমবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে ফিরেছিলেন। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশেই অবস্থিত ‘কালীঘাট মিলন সংঘ’-এর একটি দুর্গা পুজোর উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। সেই মতোই তিনি যখন ঘর থেকে বেরিয়ে মণ্ডপের দিকে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ভাইঝি পরিচয়ের আড়ালে ভিড়ের মধ্যে ওত পেতে থাকা অনুসূয়া সাহা তাঁর সামনে এসে উপস্থিত হন। মমতা বের হওয়া মাত্রই তিনি অতর্কিতে নেত্রীর ওপর চড়াও হন এবং শাড়ি ধরে টান মারেন।
যদিও উপস্থিত কর্মী ও সাধারণ মানুষ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ওই তরুণীকে মাটিতে ফেলে দেওয়ায় কোনও বড়সড় দুর্ঘটনা বা প্রাণঘাতী হামলা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তল্লাশির পর অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি ধারালো ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ অনুমান করেছিল যে তরুণী নেশাগ্রস্ত থাকতে পারেন, তবে এর পেছনে অন্য কোনও বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতকে দফায় দফায় জেরা শুরু করেছে লালবাজারের গোয়েন্দারা। উৎসবের মরশুমে এই ধরনের নিরাপত্তা গাফিলতি ও হামলার ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন ফের একবার চড়চড়িয়ে উর্ধ্বমুখী।






