রাজ্যের খবর

পঞ্চমীতেই ধুন্ধুমার হাওড়ার শিবপুরে! সিপিএমের বুকস্টল ভাঙচুর, শুরু বাম-বিজেপি তরজা

মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কারেই কি আসরে নামল কর্মীরা? পুজোমণ্ডপের সামনে বুকস্টল নিয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংঘাত!

Truth of Bengal: উৎসবের আনন্দ ম্লান করে পঞ্চমীতেই রাজনৈতিক সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হাওড়ার শিবপুর। ব্যাতাইতলা এলাকার একটি পুজোমণ্ডপের ঠিক সামনে সিপিএমের একটি ঐতিহ্যবাহী বুকস্টল ভাঙচুর করাকে কেন্দ্র করে বাম ও গেরুয়া শিবিরের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি থেকে শুরু করে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি বেধে যায়, যার জেরে গোটা এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ, সম্পূর্ণ সুপরিকল্পিতভাবে বিজেপির উন্মত্ত কর্মীরা হামলা চালিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের বুকস্টলটি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এ বিষয়ে সিপিএমের দক্ষিণ-পূর্ব হাওড়ার এরিয়া কমিটির সম্পাদক অসিত ঘোষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমরা গত ৭০ বছর ধরে এই এলাকায় নিয়ম মেনে বুকস্টল করে আসছি। হাওড়া পৌরনিগম এবং স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকে সমস্ত আইনি অনুমতি নিয়েই এই স্টল করা হয়েছিল। বিজেপির লোকজন বেআইনিভাবে এসে আমাদের স্টল ভেঙে দিয়েছে। আমাদের যদি এভাবে বাধা দেওয়া হয়, তবে আমরা কালকেই প্রকাশ্য রাস্তায় টেবিল নিয়ে বসে পড়ব। শুধু আমাদের নয়, একই কায়দায় এসইউসিআই (SUCI)-এর একটি বুকস্টলও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

অন্যদিকে, এই হামলার পুরো দায় অস্বীকার করে উলটো সুর চড়িয়েছে বিজেপি। স্থানীয় ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি নেতা বরুন কুমার সাউ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “গত ৩৪ বছর ধরে সিপিএম জমানায় সাধারণ মানুষের ওপর যে অত্যাচার চলেছে, তা মানুষ ভোলেনি। এখন আর এলাকায় কোনও ধরনের দাদাগিরি বা মস্তানি চলতে দেওয়া হবে না। এই স্টলগুলোর আড়ালে হিন্দুত্ব ও সনাতন ধর্মকে অবমাননা করে নানারকম প্রচার চালানো হচ্ছিল। সাধারণ মানুষ ও হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত হানার প্রতিবাদেই এলাকার যুবকরা রুখে দাঁড়িয়েছে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার পেছনে রয়েছে গভীরে লুকিয়ে থাকা অন্য সমীকরণ। এর আগে দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে বামেদের বুকস্টল বসানোর বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন যে, পুজোর নামে অপপ্রচার বা নির্দিষ্ট নিয়ম না মানলে বুকস্টল বসতে দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর সেই হুঁশিয়ারির পরই হাওড়ার শিবপুরে হিন্দুত্ব ও ধর্মীয় ভাবাবেগের জিগির তুলে যেভাবে বিজেপি কর্মীরা ফুঁসে উঠেছেন, তাতে উৎসবের মরশুমে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যে আরও চড়ল, তা বলাই বাহুল্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

Related Articles