সম্পাদকীয়

অন্নপূর্ণা যোজনার স্বপ্ন থেকে বাস্তবায়নের জয়যাত্রা

১.৬ কোটিরও বেশি নারীর মুখে হাসি! ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ কীভাবে বদলে দিচ্ছে বাংলার মা-বোনেদের ভাগ্য?

Truth of Bengal: দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার পূরণ করেছিল বাংলার ঘরে ঘরে প্রতিধ্বনিত এক প্রতিশ্রুতি। শুরু হয়েছিল অন্নপূর্ণা যোজনা। পাঁচ মাস আগে যে উদ্যোগের পথচলা শুরু হয়েছিল কয়েক লক্ষ মা ও বোনেদের সংসারের ভার কিছুটা লাঘব করার প্রত্যয় নিয়ে, আজ তা অতিক্রম করেছে এক প্রকল্পের পরিসর; হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের নারীর আশা, আস্থা ও আত্মমর্যাদার এক নতুন প্রতীক।

এই ভালবাসার প্রতিদান সংখ্যায় মাপা যায় না। বাংলার শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত, মা ও বোনেরা অন্নপূর্ণা যোজনাকে আপন করে নিয়েছেন অকুণ্ঠ ভালবাসায়, গভীর বিশ্বাসে। আজ, ৪ অক্টোবর ২০২৬, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সেবা সেতু শিবিরে তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, কৃতজ্ঞতা ও আশীর্বাদ যেন সেই বিশ্বাসেরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা আমাদের সেবা করার যে অধিকার ও সুযোগ দিয়েছেন, সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা কোনও পরিসংখ্যানের সাফল্যের চেয়ে অনেক বড় দায়িত্ব।

আজ অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে ১.৬ কোটিরও বেশি মহিলা উপকৃত হয়েছে। তবে এই পরিসর এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। যাঁদের যাচাই প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে, খুব শীঘ্রই তাঁরাও অন্নপূর্ণা যোজনার এই বৃহত্তর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হবেন। একইসঙ্গে, নতুন করে নাম নথিভুক্তির সুযোগও অতি শীঘ্রই শুরু হবে, যাতে আরও বেশি সংখ্যক মহিলা এই উদ্যোগের সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। মহিলাদের নিজেদের প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বিধবা ভাতা অথবা অন্নপূর্ণা যোজনার মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির ২০৪৭-এর বিকশিত ভারতের সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন, যেখানে দেশের অগ্রগতির পথে নারীরা শুধু অংশীদার নন, তাঁরাই প্রধান চালিকাশক্তি। সেই স্বপ্নকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গও এগিয়ে চলেছে দৃঢ় প্রত্যয়ে। নারীর ক্ষমতায়নকে কেন্দ্রে রেখে সেবা, সহমর্মিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির সংকল্পেই ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীজির জন্মদিনে শুরু হয়েছে সেবা সংকল্প অভিযান। একই দিনে আমরা পালন করেছি রাজ্যে প্রথম অন্নপূর্ণা দিবস, যেখানে প্রধানমন্ত্রীজি নিজে বক্তব্য রেখে নারীর ক্ষমতায়নের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সেবা সংকল্প অভিযানের প্রথম দিনেই অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে বাংলার মহিলাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সেই ‘প্রথম সেবা’; নারীর সম্মান, স্বনির্ভরতা ও আত্মমর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করার এক প্রত্যয়ী পদক্ষেপ হিসেবে।

আমাদের বিশ্বাস, একজন নারী স্বশক্ত হলে স্বশক্ত হয় তাঁর পরিবার; একজন নারী আত্মনির্ভর হলে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে একটি প্রজন্ম; আর রাজ্যের কোটি কোটি নারী যখন আত্মবিশ্বাস, সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যান, তখন এগিয়ে যায় সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ। তাই অন্নপূর্ণা যোজনা শুধু আর্থিক সহায়তার একটি কেন্দ্র নয়; এটি পশ্চিমবঙ্গের নারীর আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও স্বশক্তিকরণের প্রতি এক সুদৃঢ় অঙ্গীকার।

আজ ১.৬ কোটিরও বেশি অন্নপূর্ণা এই যাত্রার অংশ। আগামী দিনে সেই পরিবার আরও বড় হবে, আরও বহু নারী যুক্ত হবেন এই যাত্রায়। কারণ আমরা বিশ্বাস করি পশ্চিমবঙ্গের নারী যত এগিয়ে যাবেন, পশ্চিমবঙ্গও তত এগিয়ে যাবে; নারীর শক্তিই হয়ে উঠবে সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ভিত্তি।

Related Articles