“দেশদ্রোহী ও অতিবামদের তাড়াতে চাই কার্বলিক অ্যাসিড!”, অর্জুন সিংয়ের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়
"এরা লেনিনকে প্রণাম করে, জন্মদাত্রীকে নয়!" অতিবামদের ধুয়ে মুছে সাফ করার দাওয়াই পরিবহন মন্ত্রীর
Truth of Bengal: সোমবার রাজপথে দাঁড়িয়ে “খানিকক্ষণের জন্য ব্ল্যাক আউট করে দিক, তারপর দেখে নেব” মন্তব্য করার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায় এবার ভাটপাড়ায় দাঁড়িয়ে চরম তোপ দাগলেন রাজ্যের শ্রম ও পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। মঙ্গলবার কাঁকিনাড়ার পানপুর মোড়ে আয়োজিত এক সুবিশাল কর্মিসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্জুন সিং সাফ জানান, রাজ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা দেশবিরোধী শক্তি ও উগ্র অতিবামপন্থীদের ঠাণ্ডা করতে কার্বলিক অ্যাসিড ছাড়া দ্বিতীয় কোনও বিকল্প রাস্তা নেই।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রবীণ নেতা অর্জুন সিং বামপন্থী মতাদর্শকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “এই অতিবামপন্থীরা কোনওদিন ভারতের ভাল চায়নি। এরা নিজের জন্মদাত্রী মা-বাবাকে নমস্কার বা শ্রদ্ধা জানায় না, কিন্তু কার্ল মার্ক্স ও লেনিনকে পুজো করে জিন্দাবাদ দেয়! এদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা নিয়ে নতুন করে কী বা বলার থাকতে পারে!”
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসন ও আইনি ব্যবস্থার প্রশংসা করার পাশাপাশি নিজের চেনা আগ্রাসী মেজাজে অর্জুন সংযোজন করেন, “আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত সজ্জন ও আইন মেনে চলা গণতান্ত্রিক মানুষ। উনি গণতান্ত্রিক নিয়ম ও আইনের পথেই সমস্ত জট ছাড়াতে চান। কিন্তু আমি মুখ্যমন্ত্রী সাহেবকে বিনীত অনুরোধ করব, যারা এই বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের জয়ধ্বনি দেয় বা রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত করে, তারা এমনি এমনি নরম কথায় কান দেবে না। ঘরের বিষাক্ত সাপ তাড়াতে যেমন কড়া কার্বলিক অ্যাসিড ঢালতে হয়, তেমনি রাজ্যকে দেশদ্রোহী মুক্ত করতে এই রাজনৈতিক কার্বলিক স্প্রে করার সময় এসেছে।”
এদিনের জনসভা থেকে তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে ডিম ছোঁড়ার সাম্প্রতিক বিতর্কিত ঘটনা নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি অর্জুন সিং। অতি সম্প্রতি কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন যে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। সেই প্রসঙ্গের জবাবে অর্জুন হেসে বলেন, “আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন কোনও অত্যাশ্চর্য ডিমের সন্ধান জানা নেই, যা গাড়িতে ছুড়লে কাচ ভেঙে তছনছ হয়ে যায় কিংবা মানুষ খুন হয়ে যেতে পারে! এই ধরনের আজগুবি ও বানানো গল্প শুনে আমি সত্যিই তাজ্জব হয়ে যাচ্ছি।” পরিবহন মন্ত্রীর এই চাঁচাছোলা ও তোলপাড় করা মন্তব্যে বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপ এক ধাক্কায় বহু গুণ চড়ে গেল।






