অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সংক্রমণ, বাঁচানো গেল না সিংহীকে! আলিপুর চিড়িয়াখানায় চরম শোকের ছায়া
এবার অকালে প্রাণ হারাল চার বছরের তরতাজা সিংহী, চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!
Truth of Bengal: আলিপুর চিড়িয়াখানায় ফের ঘনিয়ে এল ঘন কালো শোকের ছায়া। পায়ে মারাত্মক সংক্রমণ ও সঠিক পরিচর্যার অভাব নিয়ে তীব্র আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোমবার অকালে প্রাণ হারাল চার বছর বয়সের এক অন্তঃসত্ত্বা সিংহী। দু’বছর আগে ওড়িশার নন্দনকানন অভয়ারণ্য থেকে পশুরাজের বংশবৃদ্ধির বড় লক্ষ্য নিয়ে এই খাঁচাবন্দি সিংহীটিকে আলিপুরে নিয়ে আসা হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ‘বিশ্বাস’ নামের এক বয়োবৃদ্ধ সিংহের মৃত্যুর পর, এই তরতাজা অন্তঃসত্ত্বা সিংহীর অকাল প্রয়াণে চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে সিংহের বংশবিস্তার নিয়ে নতুন করে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হল।
বিশেষ সূত্রের খবর, কয়েক দিন ধরেই সিংহীটির পায়ে বিষাক্ত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। সংক্রমণের প্রভাবে চামড়া ও গায়ের লোম ঝরে উঠতে শুরু করে। তড়িঘড়ি খাঁচাবন্দি করে চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরীণ চিকিৎসকদের অধীনেই চিকিৎসা চালানো হচ্ছিল। তবে গত রবিবার সিংহীটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। তড়িঘড়ি অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে চিড়িয়াখানার বিপরীত দিকের পশু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সোমবার চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে দ্রুততার সঙ্গে হাওড়ার গড়চুমুকে মরদেহ সৎকার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, অতীতে হায়দরাবাদ থেকে আনা সিংহ দম্পতি ‘শ্রুতি’ ও ‘বিশ্বাস’ ২০১৯ সালে তিনটি শাবকের জন্ম দেওয়ার পর দীর্ঘদিন আলিপুরে কোনও সুখবর ছিল না। গত ২০২৪ সালের আগস্টে প্রজনন ত্বরান্বিত করতে নন্দনকানন থেকে এক জোড়া সিংহ-সিংহী আনা হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যেই পরপর পশুমৃত্যুর ধাক্কায় চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর আগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া বাঘিনী, তার কয়েক মাসের মধ্যে আরও এক তরতাজা বাঘিনী এবং বিরল শকুনের মৃত্যুর ঘটনার জেরে আলিপুর চিড়িয়াখানার ভূমিকা নিয়ে জলঘোলা হয়েছিল।
বারংবার একই বিপর্যয়ে স্বভাবতই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন শহরের পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি। তাঁদের অভিযোগ, সময়মতো রোগ নির্ণয় করে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হলে এই তরতাজা অন্তঃসত্ত্বা সিংহীটিকে বাঁচানো সম্ভব হত। বর্তমানে আলিপুরে সিংহের সংখ্যা কমে মাত্র চারে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে একমাত্র পুরুষ সিংহটি তার সঙ্গিনীকে হারিয়ে শোকে ব্যাকুল হয়ে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।






