পুজো দেখতে কাটতে হবে টিকিট? ইউনেস্কোর ইমেলে পর্দাফাঁস হতেই ইন্দ্রনীলের বাড়িতে ইডি-র হানা!
আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ভেস্তে দিল ইডি! স্ত্রীর ভুয়ো সংস্থার দুর্নীতির খোঁজে ইন্দ্রনীলের ডেরায় ইডির অ্যাকশন!
Truth of Bengal: দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত। এবার ইডির আতশকাঁচের তলায় রাজ্যের প্রাক্তন পর্যটন ও তথ্য-সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। বিশ্বখ্যাত ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে দুর্গাপুজোয় লক্ষ লক্ষ টাকার ভুয়ো টিকিট কেলেঙ্কারির অভিযোগে মঙ্গলবার সকালেই প্রাক্তন মন্ত্রীর কসবার বাসভবনে তেড়েফুঁড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করলেন ইডি আধিকারিকরা। কেবল কসবাই নয়, মন্ত্রী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বন্ধুদের সাঙ্গপাঙ্গদের খোঁজে কসবা ও হাইল্যান্ড পার্ক-সহ কলকাতার অন্তত ১০টি স্পর্শকাতর ডেরায় একযোগে রেড চালাচ্ছে ইডির একাধিক টিম। পুরো বাড়ি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ানরা ঘিরে রেখেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সংস্থার নিবন্ধিত পরামর্শদাতা জয়দীপ মুখোপাধ্যায় অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে। ২০২২ সালে দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পর হঠাৎ করেই মধুছন্দা সেনকে প্রেসিডেন্ট করে একটি নতুন বেসরকারি সংস্থা গঠন করা হয়। সেই সংস্থা দাবি করে যে ইউনেস্কো তাদের আনুষ্ঠানিক পার্টনার এবং কলকাতার ৮০০-৯০০টি পুজোর মধ্যে সেরা ২৪টি প্যান্ডেল বেছে নিয়েছে। সেই সেরা ২৪টি মণ্ডপ আমজনতাকে দেখতে হলে প্রথম চারদিন চড়া দামে বিশেষ টিকিট কাটতে বাধ্য করা হয়!
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কোর সঙ্গে সরাসরি ইমেল যোগাযোগ করেন জয়দীপবাবু। ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কো লিখিত জবাবে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, তারা কোনও বঙ্গীয় সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেনি এবং পুজো দেখতে কোনও টিকিটিং প্রথা সমর্থন করে না। এর পরেই অভিযোগকারী বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেন, মধুছন্দা সেন, ধ্রুবজ্যোতি বসু, সায়ন্তন মিত্র ও রঞ্জন মিত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। সেই অর্থনৈতিক তছরুপের সূত্রের সূত্র ধরেই এবার আর্থিক কারচুপি আইনের (PMLA) অধীনে ইডি সরাসরি মাঠে নেমে পড়েছে।
পূর্বে এই জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলে প্রাক্তন মন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে তিনি অভিযোগকারীকে চেনেন না এবং তাঁর স্ত্রী একজন প্রতিষ্ঠিত আলোকচিত্রী ও শিল্পী হওয়ায় বিভিন্ন সৃজনশীল সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঙ্কার দিলেও তার আগেই ইডির তড়িঘড়ি পদক্ষেপ তাঁর সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দিল। পুজোপ্রেমী বাঙালির ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ইউনেস্কোর নামে এই মেগা টিকিট কেলেঙ্কারিতে প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের হাত কতটা গভীরে, তা এখন ইডির কেন্দ্রীয় তদন্তের নজরে।





