কলকাতা

“রামচন্দ্রের অভিশাপেই ধ্বংস তৃণমূল!”, জোড়াফুল ফ্রিজ হতেই মমতাকে নজিরবিহীন আক্রমণ শুভেন্দুর

"অতি দর্পে হত লঙ্কা!" নবান্নের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধুয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

Truth of Bengal: ২৮ বছর আগে নিজের হাতে এঁকেছিলেন দলের ঐতিহ্যবাহী ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ প্রতীক। কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ তীব্র কোন্দল ও উপনির্বাচনের আবহেই সেই পরিচিত নাম ও প্রতীক আপাতত হাতছাড়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নির্বাচন কমিশনের এই ঐতিহাসিক নির্দেশের পর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে আয়োজিত বিশ্বকর্মা পুজোর অনুষ্ঠান থেকে সুর চড়িয়ে শুভেন্দু সাফ জানান, “ভগবান পুরুষোত্তম রামচন্দ্রের অভিশাপেই আজ তৃণমূলের এই সর্বগ্রাসী ধ্বংস ডেকে এনেছে!”

এদিন নবান্নের সভাঘরে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে নাম না করে মমতার নেতৃত্বকে তীব্র কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন সমস্ত নিয়ম মেনে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উনি নিজের দলকেই একজোট করে রাখতে পারেননি; আজ দল দুই-তিন-চার ভাগ হয়ে গিয়েছে। এর সমস্ত দায় ওনার নিজের, এতে আমাদের বা বিজেপির কোনো ভূমিকা নেই।” একইসঙ্গে গণনার দিনের স্মৃতির কথা মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগ করেন, “আমি নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন হলদিয়া থেকেই বলেছিলাম, আর যারাই থাকুক না কেন, এই স্বৈরাচারী দল আর ক্ষমতায় টিকে থাকবে না।”

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির প্রসঙ্গ টেনে আনেন শুভেন্দু। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অতি দর্পে হত লঙ্কা! যার মনেই অহংকার ও দম্ভ জন্ম নেবে, সে একদিন না একদিন চূর্ণ হবেই। হিন্দু ধর্মকে অপমান করা, পবিত্র কুম্ভমেলাকে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলা এবং রাম মন্দির উদ্বোধনের পবিত্র দিনে ‘মানি না’ বলে রাজপথে মিছিল করা, এই সব অধর্মের কারণেই আজ প্রভু রামচন্দ্রের অভিশাপে তৃণমূল ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে।”

অন্যদিকে, এই একই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “এটা ওপরওয়ালার অলৌকিক বিচার! বাস্তবে তৃণমূল বলে আজ আর কোনও দল নেই। তৃণমূল দলটা বহু আগেই রাজনৈতিকভাবে মৃত ও নির্মূল হয়ে গিয়েছে।” উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচন কমিশন গতকালই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আসন্ন উপনির্বাচনে কালীঘাট কিংবা ঋতব্রত, কোনও শিবিরই ‘জোড়াফুল’ চিহ্ন ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে শুক্রবার দুই তরফ থেকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছেছে।

Related Articles