রাজ্যের খবর

প্রতীক হারিয়ে ব্যস্ত মমতা, এদিকে পুলিশের তলব এড়ালেন মহুয়া মৈত্র!

ই-মেলের মাধ্যমে পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে চলা প্রক্রিয়ার কারণে বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন

Truth of Bengal: ডায়মন্ড হারবার সাইবার ক্রাইম থানার তলবে শুক্রবার হাজির হলেন না কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ই-মেলের মাধ্যমে পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে চলা প্রক্রিয়ার কারণে বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। সেই কারণেই এ দিন থানায় উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি তাঁর। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরকেই উপনির্বাচনের জন্য বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার সূত্রেই দিল্লিতে থাকার কথা পুলিশকে জানিয়েছেন মহুয়া।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১ সেপ্টেম্বর মহুয়ার একটি এক্স পোস্ট ঘিরে। ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় রাজ্যের কয়েকজন মুসলিম আইএএস ও আইপিএস আধিকারিককে সরকারি অনুষ্ঠান ও প্রোটোকলের দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজা, রাজ্য পুলিশের এসটিএফ প্রধান জাভেদ শামিম এবং আইএএস আধিকারিক খলিল আহমেদের নামও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এই অভিযোগগুলি মহুয়ার দাবি; সেগুলির স্বাধীন যাচাই ওই পোস্টে দেওয়া হয়নি। মহুয়ার ওই পোস্টের বিরোধিতা করে ডায়মন্ড হারবারের এক বাসিন্দা সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ ছিল, ওই পোস্ট সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। তার ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এবং মহুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়।

শুক্রবারের হাজিরা নিয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মহুয়া জানিয়েছিলেন যে তিনি পুলিশের ডাকে সাড়া দেবেন। কিন্তু শুক্রবার সকালে ই-মেলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বদলের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তিনি দিল্লিতে ব্যস্ত থাকায় ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছনো সম্ভব নয়। এদিকে একই অভিযোগ সামনে রেখে মহুয়া ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রসংঘের সংখ্যালঘু বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় মুসলিম প্রশাসনিক আধিকারিকদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।ফলে একদিকে নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের নাম-প্রতীক বিতর্ক, অন্যদিকে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে পুলিশি মামলা—দুই বিষয়েই এখন রাজনৈতিক ও আইনি চাপে রয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।

Related Articles