মেলায় পুতুল বেচছেন বিজেপি বিধায়ক! বীরভূমে ভাইরাল কৃষ্ণকান্তের আবেগঘন ছবি
শৈশবের টানে মেলায় বিধায়ক! ক্রেতাদের হাতে পুতুল তুলে দিতেই বাঁধ ভাঙল ভিড়ের
Truth of Bengal: পদ, মর্যাদা আর রাজনৈতিক ব্যস্ততা মানুষের জীবনকে পাল্টে দেয়। নিত্যদিনের দলীয় কর্মসূচি, জনসভার ব্যস্ততা আর জনসেবার গুরুদায়িত্বে বদলে যায় চারপাশের চেনা জগৎ। কিন্তু রাজনীতির এই কঠিন বলয় ছাড়িয়েও শৈশবের স্মৃতি যে কতখানি গভীর হতে পারে, তার এক অনন্য ও স্পর্শকাতর নজির গড়লেন বীরভূমের সাঁইথিয়া কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। প্রশাসনিক পদের জৌলুস একপাশে সরিয়ে রেখে দেউচা রঘুনাথপুরের দেড়শো বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলায় নিজের পারিবারিক পুতুলের দোকানে বসলেন বিধায়ক। নিজের হাতে পুতুল বিক্রি করে স্মৃতির অলিন্দে ফিরে গেলেন তিনি।
বীরভূমের দেউচা রঘুনাথপুরের মনসা পুজো উপলক্ষ্যে প্রতি বছর মেলা বসে। এই মেলার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে কৃষ্ণকান্তবাবুর শৈশবের দিনগুলি। বহু বছর আগে শৈশবে বাবা, দাদা ও ভাইদের সঙ্গে এই মেলাতেই পুতুলের পসরা সাজিয়ে বসতেন আজকের এই হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মেলার কোলাহল, ছোট ছোট শিশুদের আনন্দ আর পুতুল বিক্রির মধ্যে দিয়েই কেটেছিল তাঁর বেড়ে ওঠা। কালক্রমে তিনি আজ সাঁইথিয়ার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কিন্তু মেলা শুরু হতেই শিকড়ের টানে ফের সেই পুরনো দোকানে ফিরে এলেন কৃষ্ণকান্ত।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নিজেদের পুতুলের দোকানটি নতুন করে সাজিয়ে তোলেন বিধায়ক। এরপর সাধারণ দোকানদারের মতো নিজেই দোকানে বসে খদ্দেরদের হাতে তুলে দিতে থাকেন রং-বেরঙের পুতুল। মেলার ভিড়ে উপস্থিত ক্রেতারাও হঠাৎ বিধায়ককে এভাবে দোকানের রকে বসে বিকিকিনি করতে দেখে অবাক ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
নিজের ছোটবেলার স্মৃতিতে ডুব দিয়ে আবেগঘন গলায় বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা বলেন, “আমার শৈশবের একটা বড় অংশ কেটেছে এই মেলায়। বাবা ও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে এখানে পুতুল বিক্রি করতাম। পদ বা পরিচয় জীবনে সাময়িক পরিবর্তন আনে, কিন্তু জীবনের আসল পরিচয় তো শিকড়েই থাকে। আজ ফের সেই দোকানে বসে মনে হচ্ছে যেন পুরনো দিনগুলোতে ফিরে গিয়েছি।” জননেতার এমন নিরহংকারী মানসিকতা ও স্মৃতির প্রতি টান দেখে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মেলার প্রাঙ্গণে সেদিন অন্য এক মানুষ হিসেবে ফুটে উঠলেন সাঁইথিয়ার এই বিধায়ক।






