অবসরের দেড় মাস আগেই অপসারিত যাদবপুরের রেজিস্ট্রার! সেলিম বক্সের জায়গায় দায়িত্বে কে?
ক্যাম্পাসে বাম-এবিভিপি তাণ্ডবের জের? মুখ খোলার পরই অপসারিত যাদবপুরের হাই-প্রোফাইল রেজিস্ট্রার!
Truth of Bengal: অবসরগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের মাত্র মাস দেড়েক আগে এক নজিরবিহীন ও চরম প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখে পড়লেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল। পদ থেকে অপসারিত করা হল তাঁকে। রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আর এন রবির নির্দেশিকা পাওয়ার পরেই উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফ থেকে এই অপসারণের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী ৬ মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক দেবজিৎ দত্তকে নতুন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফিনান্স অফিসার পদে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিতর্ক যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। বিগত কয়েক দিন ধরেই ক্যাম্পাসের উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়ছিল। মাত্র ১৫ দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিল ও জেনারেল বডি (GB) বৈঠককে কেন্দ্র করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-এর মধ্যে নজিরবিহীন সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ক্যাম্পাস। পরিস্থিতি এতটাই চরম আকার নেয় যে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন এবং যাদবপুরকে ‘দেশবিরোধী’ শক্তির আখড়া বলে মন্তব্য ভেসে আসে।
ক্যাম্পাসে এই অশান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই শাসকদল ঘনিষ্ঠ অধ্যাপক সংগঠনগুলির ক্ষোভের মুখে পড়েন তৎকালীন রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সোচ্চার হয়েছিলেন অনেক শিক্ষক ও কর্মী। সেই বিতর্কের জের কাটার আগেই অবশেষে রাজ্যপালের নির্দেশে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
রাজভবন সূত্রে খবর, রাজ্যপাল আর এন রবির পাঠানো নির্দেশিকায় বদলি ও অপসারণের সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই চিঠির ভিত্তিতেই রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর অপসারণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত নোটিস ক্যাম্পাসে পাঠায়। আগামী অক্টোবরের শেষে সেলিম বক্স মণ্ডলের স্বাভাবিক অবসরগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু তার ঠিক আগেই এই হঠাৎ অপসারণকে স্রেফ ‘নিয়মমাফিক রদবদল’ বলতে নারাজ শিক্ষামহলের একটি বড় অংশ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে আদতে এটি এক বড়সড় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ। তবে রাজভবন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, আচার্যের আইনানুগ ক্ষমতার এক্তিয়ারভুক্ত বিধিসম্মত পথেই সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করা হয়েছে।






