“দুর্নীতির লুটের টাকা উসুল হবে, জেলে যেতেই হবে!”, জিটিএ দুর্নীতিতে গ্রেফতারির হুঙ্কার শুভেন্দুর
পাহাড়ের জন্য জোড়া ধামাকা! জিটিএ বাজেট এক ধাক্কায় দ্বিগুণ, কালিম্পঙে তৈরি হচ্ছে নতুন মেডিক্যাল কলেজ
Truth of Bengal: পাহাড়ের উন্নয়নে কোনও ধরনের দুর্নীতি বা স্বজনপোষণ বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট ও কড়া প্রশাসনিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA)-এর বিগত কাজের হিসাব টেনে এনে সাফ জানিয়ে দিলেন, জিটিএ-তে ঘটে যাওয়া আর্থিক কারচুপির সঙ্গে যুক্ত কাউকে রেয়াত করা হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় এফআইআর দায়ের থেকে শুরু করে সরাসরি গ্রেফতারি করা হবে এবং লুটের টাকাও উদ্ধার করা হবে। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দফতর ‘উত্তরকন্যা’ থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক দিকনির্দেশ দিতে গিয়ে এই ধামাকা হুঙ্কার দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সকালে কালিম্পঙে সশরীরে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তীব্র কুয়াশা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চপার অবতরণে সমস্যা হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার ফিরে আসে শিলিগুড়িতে। এরপর উত্তরকন্যায় পৌঁছে উত্তরবঙ্গের জেলাশাসক ও পুলিশ কর্তাদের নিয়ে মেগা বৈঠকে বসেন নবান্নের প্রধান। সেখানে পাহাড়ের ধস, ভারী বৃষ্টি ও তিস্তার জলস্ফীতি এবং মালদহের বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি জিটিএ-র কাজের বিশদ খতিয়ান নেন তিনি।
তৃণমূল জমানার আমলের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী তোপ দাগেন, “বিগত সরকারের সময় জিটিএ-র ১১টি পৃথক বোর্ডের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। পানীয় জলের প্রকল্প থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ পর্যন্ত পাহাড়ে একের পর এক দুর্নীতি হয়েছে, কোটি কোটি টাকা স্রেফ লুট করা হয়েছে। কোনও অনিয়ম এবার আর বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি কেলেঙ্কারির আলাদা তদন্ত হবে, এফআইআর করে দোষীদের গ্রেফতার করা হবে এবং জনগণের লুটের টাকা উসুল করা হবে।”
শুধু দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়াই নয়, পাহাড়ের উন্নয়নে একাধিক উপহারও ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, জিটিএ-র বার্ষিক বাজেট এবার এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এছাড়া কালিম্পঙে একটি আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের জন্য দ্রুত ভূমিপুজো সম্পন্ন হতে চলেছে। পাহাড়ের দুর্যোগ ও ধস সামলাতে অতিরিক্ত ২৫০ কোটি টাকার বিশেষ ত্রাণ ও অবকাঠামো তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। অতি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাহাড় সফরের পর প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়াতে জিটিএ-তে যে নতুন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল, তিনি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।






