‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ ভ্যাকসিন দিতেই মৃত্যু দুধের শিশুর! কাঠগড়ায় হরিণঘাটার স্বাস্থ্যকেন্দ্র
৩ মাসের শিশুর করুণ পরিণতি! টিকা দেওয়ার পরেই শরীর ফুলে চরম বিপর্যয়, আঙুল স্বাস্থ্যকর্মীদের দিকে
Truth of Bengal: সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পোলিও-সহ একাধিক টিকা দেওয়ার পর মারাত্মক সংক্রমণের জেরে মৃত্যু হল মাত্র তিন মাসের এক শিশুর। নদীয়া জেলার হরিণঘাটা থানার নগরউখড়া এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাঁড়িপাড়া সাতবেড়িয়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের চরম গাফিলতি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ (Expired) ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার কারণেই এই করুণ পরিণতি বলে সরব হয়েছে মৃত শিশুর পরিবার। তিন মাসের একরত্তি ঋষভ দাসের অকালমৃত্যুতে গোটা হরিণঘাটা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিকা সংরক্ষণ পরিকাঠামো নিয়ে উঠেছে মারাত্মক একাধিক প্রশ্ন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ আগস্ট হাঁড়িপাড়া ঘোষপাড়া হেলথ সেন্টারে তিন মাসের শিশু ঋষভ দাসকে বিভিন্ন নিয়মিত টিকা ও পোলিও ড্রপ খাওয়ানো হয়। কিন্তু টিকাকরণের পর থেকেই শিশুটির স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে এবং হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে ওঠে। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলেও অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট তাঁকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বনগাঁ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, ভ্যাকসিন প্রয়োগের জায়গায় মারাত্মক সংক্রমণ (Infection) ছড়িয়ে পড়েছে এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পরেই গত সপ্তাহে ঋষভকে কলকাতার নীলরতন সরকার (NRS) মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা একটি অস্ত্রোপচার করলেও শেষ রক্ষা হয়নি; গত ২৯ আগস্ট চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শিশুটি মারা যায়।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী টিকাকরণের পর স্বাক্ষর ও সিলমোহরযুক্ত টিকা কার্ড পরিবারকে হস্তান্তরের কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী বুলু মিত্র এবং সহকারী আশা কর্মী শিখা ভৌমিকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে নগরউখড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এমনকি ঘটনা ধামাচাপা দিতে টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাগদার বিধায়ক সোমা ঠাকুর, হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম কুমার সরকার এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।






