“থিমের নামে মায়ের রূপ বিকৃতি চলবে না!”, বার্ণপুরে ঢাক বাজিয়ে বড় হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার
মণ্ডপে আমিষ খাবার থেকে জুতোর থিম! দুর্গাপুজো নিয়ে সব বিতর্কের অবসান ঘটালেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
উজ্জ্বল দাশগুপ্ত, আসানসোল: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর ঢাঁক বাজতে আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই আসানসোল শহরের বার্ণপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো কমিটির খুঁটিপুজোকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে শুরু হল উৎসবের আবহ। শুভ মুহূর্তে নিজের হাতে কাঁধে ঢাক তুলে নিয়ে বাজিয়ে মণ্ডপের পবিত্রতা বজায় রাখার বিশেষ বার্তা দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মন্ত্রীর ঢাকের বোল ও ছন্দে মেতে উঠে আনন্দে নৃত্য পরিবেশন করেন পুজো কমিটির মহিলা সদস্যরা। এদিনের এই খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠান থেকে থিম পুজোর নামে মাতৃপ্রতিমার বিকৃতি ও মণ্ডপের নিয়মাবলী নিয়ে একাধিক সংবেদনশীল বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন মন্ত্রী।
উৎসবের এই আনন্দের আমেজেই মণ্ডপের পবিত্রময় পরিবেশ রক্ষায় কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সম্প্রতি পুজোর খাবার নিয়ে তৈরি হওয়া আমিষ-নিরামিষ বিতর্কে জল ঢেলে তিনি জানান, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, “বাঙালির চিরাচরিত খাদ্যাভ্যাসে কোনও জবরদস্তি বা বাধানিষেধ নেই। তবে মণ্ডপের মূল আঙিনার ভিতরে যেন কোনওভাবেই আমিষ খাবার নিয়ে প্রবেশ না করা হয়। মণ্ডপের বাইরের প্রাঙ্গণে আমিষ খাবার গ্রহণে কোনও অসুবিধা নেই।” একই সঙ্গে থিমের নামে চটি-জুতো দিয়ে মণ্ডপ সাজানো এবং প্রতিমার মুখ ও সাজসজ্জার বিকৃতি ঘটানোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঐতিহ্যবাহী ‘নির্মল ও পবিত্র পুজো’ আয়োজনের বিনীত আর্জি জানান তিনি।
দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে রাজ্য সরকারের দেওয়া আর্থিক অনুদান প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তই তাঁর সিদ্ধান্ত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, পুজোর উদ্যোক্তারাও জানিয়েছেন যে অনুদান সংক্রান্ত সরকারের যেকোনও সিদ্ধান্তকে তাঁরা সানন্দে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
পুজোর মেজাজে মেতে ওঠার পাশাপাশি আসানসোল শহরের নাগরিক পরিষেবার ওপর জোর দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেন মন্ত্রী। এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত পানীয় জলের যোগান সুনিশ্চিত করে তিলোত্তমা আসানসোলকে নতুন রূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।





