রাজ্যের খবর

“অন্নপূর্ণার টাকা পেয়েছেন তো?”, শিলিগুড়িতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের দরজায় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ

শিলিগুড়িতে ঘরে ঘরে বড় চমক! সুবিধাভোগীদের দরজায় সেঁটে দেওয়া হচ্ছে ‘গর্বিত প্রাপক’ স্টিকার

Truth of Bengal: রাজ্যজুড়ে বহুল চর্চিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র অর্থ বণ্টনকে কেন্দ্র করে একাধিক এলাকায় তৈরি হয়েছে সাময়িক ক্ষোভ ও অসন্তোষ। আবেদন জমা দিয়েও অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছানোয় ছড়িয়েছে অসন্তোষ। তবে যোগ্য প্রাপকদের বারবার ভরসা দিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এবার সেই বার্তা ও প্রকল্পের বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে সরজমিনে মাঠে নামলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ। সাধারণ মানুষের কাছে প্রকল্পের সুবিধা ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে কি না, তার উত্তর খুঁজতে বুথ স্তরে সরাসরি মহিলাদের দুয়ারে পৌঁছালেন তিনি।

শিলিগুড়ি শহরে অন্নপূর্ণা যোজনার আসল পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অভিনব এই জনসংযোগ অভিযান শুরু করেছেন মন্ত্রী। বুথের বাড়ি বাড়ি ঘুরে মহিলাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি প্রশ্ন করছেন, “অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়মিত পেয়ে যাচ্ছেন তো?” যে সমস্ত পরিবার থেকে ইতিবাচক উত্তর মিলছে, অর্থাৎ টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন মহিলারা, তাঁদের বাড়ির প্রবেশদ্বারে হাসিমুখে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা গর্বিত প্রাপক’ লেখা বিশেষ স্টিকার সাঁটিয়ে দিচ্ছেন শংকর ঘোষ।

তবে কেবল আনন্দ ভাগ করে নেওয়া নয়, যাঁরা এখনও প্রকল্পের টাকা পাননি, তাঁদের জন্যও হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পর্যটন মন্ত্রী। যাঁরা টাকা পাননি বলে জানাচ্ছেন, তাঁদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে অবিলম্বে স্থানীয় বিধায়ক কার্যালয় বা সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে দ্রুত প্রশাসনিক ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

এদিন পরিদর্শনের সময় শংকর ঘোষ জানান, “বর্তমানে কেবল শিলিগুড়ি শহরেই প্রায় ৩২ হাজার যোগ্য মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন। তবে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার আবেদনকারীর প্রক্রিয়াটি এখনও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে প্রকৃত যোগ্য কোনও আবেদনকারীই যেন এই সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত না হন। বিধায়ক সেবা কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা সমস্ত অসম্পূর্ণ বা ঝুলে থাকা আবেদন ধারাবাহিকভাবে রাজ্য নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরে পাঠানো হচ্ছে।” মন্ত্রীর এই তৎপরতায় শিলিগুড়ির অন্নপূর্ণা গ্রাহকদের একাংশের মুখে চওড়া হাসির রেখা ফুটে উঠেছে।

Related Articles