TMCP Foundation Day: তৃণমূলের দুই শিবিরকেই অনুমতি, তবে কড়া শর্ত বেঁধে দিল হাইকোর্ট
১৫০০ জনের বেশি জমায়েত নয়! ধর্মতলা ও ক্যাথিড্রাল রোডে ভাগ হয়ে গেল তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস
Truth of Bengal: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) ২৮ অগস্টের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনে দুই বিবাদমান গোষ্ঠীকেই শর্তসাপেক্ষে কর্মসূচির অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ঐতিহ্যবাহী মেয়ো রোডে সভার আবেদন জানালেও দুই শিবিরের কাউকেই সেখানে অনুমতি দেয়নি আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ওই দিন ক্যাথিড্রাল রোডে তাদের কর্মসূচি পালন করবে। অন্যদিকে, ঋতব্রতপন্থী ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরকে সভার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে।
বিগত বছরগুলিতে শাসকদলের ছাত্র সংগঠন প্রতি বছরই মেয়ো রোডে মহাসমারোহে তাদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করত। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অধিকাংশ জয়ী বিধায়ক পৃথক অবস্থান নিয়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করেন, যেখানে মমতার নেতৃত্বাধীন অংশ কালীঘাট শিবির হিসেবে পরিচিত হয়। এই অবস্থায় দুই পক্ষই ঐতিহাসিক মেয়ো রোডে প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের অনুমতি চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল।
মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য দুই পক্ষকেই নির্দিষ্ট কিছু কড়া শর্তে বেঁধে দেন। বিচারপতির নির্দেশ, আগামী শুক্রবারের সভায় কোনও শিবিরই ১৫০০ জনের বেশি সমর্থকের জমায়েত করতে পারবে না। উভয় গোষ্ঠীর সভার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত। শুনানির এক পর্যায়ে কিছুটা তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বিচারপতি বলেন, “আপনারা বিভাজন ভুলে একযোগে অনুষ্ঠান করুন, তা হলে আমি ব্রিগেডে ১০ হাজার মানুষের জমায়েতের অনুমতি দেব।”
এর পাশাপাশি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আদালতের নির্দেশ, বুধবারের মধ্যে দুই পক্ষকেই ২০ জন করে স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর কলকাতা পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে। সভার সময়ে ধর্মতলা ও সংলগ্ন অঞ্চলের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব থাকবে এই স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর। কলকাতা পুলিশকে ওই দিন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ। উল্লেখ্য, এর আগে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের কর্মসূচি ঘিরেও দুই শিবিরের মধ্যে একই আইনি টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সেবারও আদালত ঋতব্রত শিবিরকে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে এবং মমতা শিবিরকে ক্যাথিড্রাল রোডে সভা করার পৃথক অনুমতি দেয়।






