রাজ্যের খবর

বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আবেদন খারিজ হাই কোর্টে! তদন্তে ছাড় দিল না আদালত

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন

Truth of Bengal: বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের রক্ষাকবচের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। পুলিশি তদন্তে এই মুহূর্তে কোনও হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ। শুনানির সময় টুলুকে নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যও করেন বিচারপতি। তাঁর কথায়, “টুলু মণ্ডল ইন্দ্রজিৎ। রামায়ণের মতো। মেঘের আড়াল থেকে সবকিছু নজরে রাখছেন।” রক্ষাকবচের আর্জির পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন টুলুর আইনজীবী দুষ্যন্ত দাভে। তাঁর বক্তব্য, বাড়িতে নগদ টাকা বা সোনা রাখা ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী অপরাধ নয়। প্রয়োজনে আয়কর আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এর জবাবে বিচারপতি উল্লেখ করেন, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ সামান্য নয়, বরং বিপুল। টুলুর আইনজীবী আরও প্রশ্ন তোলেন, নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় কেন সংগঠিত অপরাধের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। আদালত জানায়, কোনও নির্দিষ্ট ধারার প্রয়োগ নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করা উচিত।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তদন্তকারী সংস্থার কাজে হাই কোর্টের হস্তক্ষেপ করা ঠিক হবে না বলেও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে একটি গোপন রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতের কাছে আবেদন করেন, রিপোর্টের তথ্য যাতে বাইরে প্রকাশ না পায়। বিচারপতি সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখেন। সম্প্রতি বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা এলাকায় টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। মিনারকে গ্রেফতার করা হলেও টুলুর খোঁজ মেলেনি। তাঁর একাধিক সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

গ্রেফতারির আশঙ্কায় প্রথমে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চেই রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন করেছিলেন টুলু। পরে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদ্ধতি চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চেও যান তিনি। কিন্তু একই বিষয়ে অন্য বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকায় সেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি চন্দ। এরই মধ্যে টুলুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার পাশাপাশি ইন্টারপোলের ‘রেড কর্নার’ নোটিসও জারি হয়েছে। সিউড়ির অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাঁকে শুক্রবার সকালের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজিরা না দিলে তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে হাই কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন টুলু মণ্ডল। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় তাঁর আইনি চাপ আরও বাড়ল।

Related Articles