রাজ্যের খবর

রাতের অন্ধকারে বাড়ি ফিরতেই রে-রে করে উঠল জনতা! প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরকে তাড়া করল গোটা গ্রাম

রণক্ষেত্র দুর্গাপুরের ডিপিএল কলোনি! পুলিশের সামনেই তৃণমূল নেতার বাড়িতে তাণ্ডব ও ভাঙচুর!

Truth of Bengal: রাজনৈতিক পালাবদলের এতদিন পর রাতের অন্ধকারে নিজ এলাকায় ফিরতেই প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরকে তাড়া করল ক্ষুব্ধ জনতা। ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল দুর্গাপুরের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডিপিএল কলোনি এলাকায়। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের আগুনে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে প্রাক্তন কাউন্সিলরের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশ বাধা দিতে গেলে চরম ধস্তাধস্তি শুরু হয়, এবং অবশেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ার গ্যাসের সেলও ফাটাতে হয়।

স্থানীয় সূত্রের খবর, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শশাঙ্ক শেখর মণ্ডল এবং তাঁর দাদার বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দাপট দেখানো এবং সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারে অভিযুক্ত করার দাবি তুলে আসছিলেন বাসিন্দাদের একাংশ। ক্ষমতার দাপটে আগে কেউ মুখ খুলতে না পারলেও, রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন ওই প্রাক্তন কাউন্সিলর। জানা গিয়েছে, স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘড়ুইয়ের আশ্বাসে রবিবার গভীর রাতে এলাকায় ফেরেন শশাঙ্কবাবু। কিন্তু তাঁকে দেখা মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো এলাকা।

অভিযোগ, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার মানুষ একজোট হয়ে প্রাক্তন কাউন্সিলরকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং এলাকা ছাড়ার দাবি তোলেন। একপর্যায়ে উত্তেজনার পারদ চড়লে পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁকে তাড়া করে ক্ষুব্ধ জনতা। এরপরই শশাঙ্ক শেখর মণ্ডলের বাড়িতে চড়াও হয়ে আসবাবপত্র-সহ ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি। হিংসাত্মক রূপ নেওয়া এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী।

উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের একাধিক সেল ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে এলাকা ফাঁকা করার চেষ্টা করে। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকা জুড়ে মারাত্মক আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাতভর ডিপিএল কলোনিতে মোতায়েন রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। পুলিশ ওই প্রাক্তন কাউন্সিলরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে বা আটকে রেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে।

Related Articles