কলকাতা

ডার্বির দিন সকালেই বরানগরে চরম উত্তেজনা! স্ত্রী খুনের অভিযোগে গ্রেফতার মোহনবাগানের প্রাক্তন ফুটবলার

বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় রহস্যমৃত্যু! ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর প্রাক্তন সবুজ-মেরুন ফুটবলারকে ঘিরে তুলকালাম

Truth of Bengal: মরশুমের হাইভোল্টেজ কলকাতা ডার্বির সকালেই শহরতলির বরানগরে ঘনাল চরম চাঞ্চল্য। স্ত্রীকে হত্যা এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হল মোহনবাগানের প্রাক্তন ফুটবলার মানস দাসকে। রবিবার সকালে বরানগর থানার পুলিশ তাঁকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। ময়দানের চেনা মুখ তথা প্রাক্তন সবুজ-মেরুন ডিফেন্ডারের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় ফুটবল প্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন মাস আগে উত্তরবঙ্গের এক বাসিন্দার সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মানস। তবে বিয়ের পর থেকেই দম্পতির মধ্যে প্রতিনিয়ত অশান্তি ও বনিবনা হচ্ছিল না বলে দাবি প্রতিবেশীদের। শনিবার বরানগরের অশোকগড় এলাকায় মানসের বসতবাড়ি থেকেই তাঁর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ওই তরুণীর ওপর মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন মানস। তাঁদের দাবি, ওই গৃহবধূকে খুন করেই ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতে বরানগর থানার পুলিশ গোপানে দেহটি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিল। এই আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ জনতা মৃতদেহ আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা। অবশেষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

স্থানীয়দের তোপ, ঘটনার পরপরই কেন অভিযুক্ত ফুটবলারকে পুলিশ আটক করেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গেলেই তাঁদের ওপর চড়াও হওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত জনরোষ ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে রবিবার সকালে পুলিশ মানস দাসকে গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য, জামশেদপুরের বিখ্যাত টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি (TFA) থেকে উঠে আসা ২০০২ ব্যাচের তারকা মানস দাস টালিগঞ্জ অগ্রহামী ও সাদার্ন সমিতিতে খেলার পর ২০০৫ সালে মোহনবাগানে সই করেন। পরবর্তীতে প্রয়াগ ইউনাইটেড ও মহিন্দ্রা ইউনাইটেডের মতো শীর্ষ সারির ক্লাবেও ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেছেন তিনি। বর্তমানে এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা বরানগরজুড়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

Related Articles