প্রযুক্তি

ইলন মাস্কের রকেটের ধাক্কায় চন্দ্রপৃষ্ঠে ৬০ ফুট গভীর গর্ত! মারাত্মক আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা

৫৪০০ মাইল বেগে চাঁদের বুকে মহাকাশযানের আছড়ে পড়া! ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরোলো রহস্যময় আলো!

Truth of Bengal: মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক বিরল ও অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী থাকল বিশ্ব। মার্কিন ধনকুবের ইলোন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের (SpaceX) একটি বিশালাকার রকেট অনিয়ন্ত্রিতভাবে আছড়ে পড়ল চাঁদের মাটিতে। ফ্যালকন-৯ নামক ওই পরিত্যক্ত রকেটের মারাত্মক ধাক্কায় চন্দ্রপৃষ্ঠে তৈরি হয়েছে প্রায় ৬০ ফুট চওড়া এবং ১০ ফুট গভীর এক বিশালাকার গর্ত। তীব্র সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট এই বিস্ফোরণ ও ধ্বংসস্তূপ থেকে নির্গত আলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চার হাজার কিলোগ্রাম ওজনের এই ফ্যালকন-৯ রকেটটি গত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুটি বাণিজ্যিক লুনার ল্যান্ডার নিয়ে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। মিশন সফল হলেও পরবর্তী সময়ে রকেটটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গণনার গোলমালে সেটি কক্ষপথ হারিয়ে চাঁদের আকর্ষণে মহাশূন্যে ভাসতে থাকে। অবশেষে ঘণ্টায় প্রায় ৫৪০০ মাইল গতিবেগে, যা শব্দের গতির চেয়েও বহুগুণ বেশি, রকেটের ওপরের অংশটি চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার লুনার রিকনাইস্যান্স অরবিটার (LRO) চন্দ্রপৃষ্ঠে এই নতুন গর্তটি চিহ্নিত করে ছবি পাঠিয়েছে।

ইউরোপীয় সাউদার্ন অবজারভেটরি এবং নাসার তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ধাক্কার তীব্রতায় চাঁদের ভূগর্ভ থেকে সোডিয়াম ও লিথিয়ামের মতো উপাদান ছিটকে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। গর্তের চারপাশ থেকে উজ্জ্বল রশ্মির মতো রেখা ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, রকেটের ধাক্কায় চন্দ্রগর্ভের বেশ গভীরের কিছু অচেনা পদার্থ ওপরের স্তরে চলে এসেছে। যেহেতু চাঁদে কোনও বায়ুমণ্ডল বা বাতাস নেই, তাই নাসার অ্যাপোলো অভিযানের মতো এই ৬০ ফুটের গর্তটিও আগামী হাজার বছর ধরে চন্দ্রপৃষ্ঠে অক্ষত থেকে যাবে।

এই ঘটনায় পৃথিবীর সরাসরি কোনও ক্ষতি না হলেও, এটি ‘স্পেস ড্রেবিস’ বা মহাকাশ-বর্জ্যের বিপজ্জনক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। অগণিত রকেটের অবশিষ্টাংশ ও বিকল উপগ্রহ মহাশূন্যে বিপজ্জনকভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যার নির্দিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রণ বা আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো নেই। বিজ্ঞানীদের একাংশের আশঙ্কা, দ্রুত মহাকাশ-বর্জ্য সাফাই ও কঠোর নিয়ম চালু না করা গেলে ভবিষ্যতে মানুষের যেকোনও নতুন মহাকাশ অভিযান ও চন্দ্র গবেষণা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Related Articles