জেআইএস -এনআইটি এর ‘স্বাগতম’ অনুষ্ঠানে সানি দেওল, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
ওই অনুষ্ঠানটিতে জনজীবন, শিক্ষাজগৎ, স্বাস্থ্যসেবা, চলচ্চিত্র, আধ্যাত্মিকতা এবং শিল্পক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা একত্রিত হয়েছিলেন।

Truth of Bengal: শিক্ষাগত উৎকর্ষ ও সামগ্রিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জেআইএস গ্রুপের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘নারুলা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ (এন আই টি) কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে তাদের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করলো। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয় এবং অনুপ্রেরণা, শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সামগ্রিক বিকাশের সুযোগের মধ্য দিয়ে তাদের শিক্ষাজীবনের সূচনা করা হয়।
ওই অনুষ্ঠানটিতে জনজীবন, শিক্ষাজগৎ, স্বাস্থ্যসেবা, চলচ্চিত্র, আধ্যাত্মিকতা এবং শিল্পক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা একত্রিত হয়েছিলেন। বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা সানি দেওল, বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার রাজকুমার সন্তোষী, কার্ডিওভাসকুলার ও থোরাসিক সার্জারি বিভাগের পরিচালক ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. কুণাল সরকার,মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি,পশ্চিমবঙ্গ-এর উপাচার্য অধ্যাপক তাপস চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ মিশন শিল্প মন্দির, বেলুড় মঠের স্বামী বেদাতীতানন্দ জী, জেআইএস বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা জেআইএস গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সর্দার তরণজিৎ সিং, জেআইএস গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সর্দার অমরীক সিং, জেআইএস গ্রুপের ডিরেক্টর সর্দার সিমারপ্রীত সিং, জেআইএস গ্রুপের ট্রাস্টি সর্দার হরিন্দর পাল সিং, নারুলা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড.শুভ্রম দাস, জেআইএস গ্রুপ ও নারুলা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলেন সানি দেওল। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে তাঁর অসাধারণ যাত্রাপথের নানা অভিজ্ঞতা ও অন্তর্দৃষ্টি তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি তাঁর আসন্ন চলচ্চিত্র ‘বাঁটোয়ারা ১৯৪৭’ নিয়েও কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর এই আলাপচারিতা নবীনবরণ অনুষ্ঠানটিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। এর ফলে তরুণ শিক্ষার্থীরা একজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য লাভের পাশাপাশি তাঁর অভিজ্ঞতা ও জীবনসংগ্রাম থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণের সুযোগ পায়।
মাকাউট , যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র, স্বাস্থ্যসেবা, আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পক্ষেত্রের সফল ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে। তাদের অংশগ্রহণ পরিবর্তনশীল ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে একাডেমিক উৎকর্ষ, উদ্ভাবন, নেতৃত্ব, মূল্যবোধ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশিষ্ট অতিথিরা আত্মবিশ্বাস, অধ্যাবসায়, শৃঙ্খলা, কৌতূহল এবং মুক্ত মানসিকতা নিয়ে এই নতুন অধ্যায়কে গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, উচ্চশিক্ষা কেবল একাডেমিক সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এমন একটি রূপান্তরমূলক পর্যায় যা ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং পেশাগত আকাঙ্ক্ষাকে গড়ে তোলে।
এই অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের (৩৬০-ডিগ্রি ডেভেলপমেন্ট) প্রতি এনআই টি-এর দৃঢ় অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে, যেখানে প্রথাগত শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার বাইরেও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্ষেত্র অন্বেষণের সুযোগ দেওয়া হয়। সফল ব্যক্তিত্ব, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ, উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদদের সান্নিধ্য, শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতে এবং তাদের আত্মবিশ্বাসী, অভিযোজনক্ষম ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেআই এস গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সর্দার তরণজিৎ সিং বলেন,এই পরিচিতি পর্বটি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উদ্দীপক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। জেআইএস গ্রুপে আমরা বিশ্বাস করি যে, শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আত্মবিশ্বাস, চরিত্র, কৌতূহল এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে মানিয়ে চলার সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়। আমরা আমাদের নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত এবং আশা করি যে, নারুলা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে তাদের এই যাত্রা আবিষ্কার, বিকাশ এবং অর্থবহ অর্জনের পথে এগিয়ে যাবে।
একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, উদ্ভাবন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলার ওপরও এই অনুষ্ঠানে গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সাথে মতবিনিময় শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, নেতৃত্ব এবং দৃঢ় সংকল্পের সাথে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের গুরুত্ব সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা প্রদান করে।
‘স্বাগতম ২০২৬’ নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক ও প্রাণবন্ত আবহ তৈরি করে; এটি শিক্ষার্থীদের জেআইএস গ্রুপের বৃহত্তর পরিসরে স্বাগত জানায় এবং শিক্ষা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা, মূল্যবোধ ও ব্যক্তিগত রূপান্তরের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এক শিক্ষাঙ্গনের সাথে তাদের পরিচিত করায়।
ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত পেশাজীবী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার নতুন অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। এই শিক্ষার্থীরা কেবল জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতায় নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, চরিত্র, সৃজনশীলতা এবং সমাজের প্রতি দৃঢ় দায়বদ্ধতার বোধেও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।






