“বিশ্বাসঘাতকের স্থান নেই!”, গড়ফায় সায়নী ঘোষের কার্যালয়ে তালা ঝোলাল তৃণমূল কর্মীরাই!
তৃণমূলের অফিসে বসেই অন্য দলের কাজ? গড়ফায় সায়নীর নামফলক উপড়ে ফেলে তুমুল তাণ্ডব!
Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হয়েও অন্য রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচার ও জনসংযোগের গুরুতর অভিযোগ! এবার দলীয় কর্মীদের রোষের মুখে পড়লেন যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সায়নী ঘোষ। সোমবার দক্ষিণ কলকাতার গড়ফা এলাকায় সায়নী ঘোষের ব্যবহৃত কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিল স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে।
ঘটনার সূত্রপাত গড়ফার ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকে এই অফিসটিকেই নিজের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতেন সায়নী। এখানেই স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, এলাকার নানা উন্নয়নমূলক আলোচনা এবং নির্বাচনী কৌশল ঠিক করা হতো। কার্যালয়ের বাইরে এতদিন পর্যন্ত শোভা পেত সায়নী ঘোষের নামাঙ্কিত সুসজ্জিত একটি বোর্ড।
তবে সোমবার দুপুরে হঠাৎই একদল যুবক-যুবতী ওই কার্যালয়ের সামনে হাজির হন। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বলে দাবি করে তাঁরা সায়নীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের হাতে ছিল ‘গো ব্যাক সায়নী’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকের জায়গা নেই’ লেখা একাধিক পোস্টার ও ব্যানার। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তৃণমূলের টিকিটে জিতেও সায়নী এখন ‘বিদ্রোহী’ ভূমিকা নিয়েছেন এবং এনসিপিআই (NCPI)-এর হয়ে সক্রিয় কাজ করছেন। এমনকি এনডিএ (NDA)-র বিভিন্ন বৈঠকে তাঁকে উপস্থিত থাকতে দেখা যাচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ হয়ে এবং দলীয় কার্যালয়ে বসে অন্য কোনও ভুঁইফোঁড় দলের স্বার্থে কীভাবে কাজ করতে পারেন সায়নী?
বিক্ষোভের সময় কার্যালয়ে সায়নীর এক সহযোগী উপস্থিত ছিলেন। ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে ঘরের বাইরে বের করে দিয়ে সোজা দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। সায়নীর নামফলকও সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের সাফ বার্তা, তৃণমূলের পার্টি অফিস ব্যবহার করে দলের মূল আদর্শের বিরুদ্ধে কাজ করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই নজিরবিহীন ঘটনা ও দলীয় কর্মীদের চরম অসন্তোষ নিয়ে সায়নী ঘোষের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।






