কলকাতা

পুজো মিটলেই বাজবে ভোটের বাদ্যি! কলকাতা-সহ ৭ পুরসভায় নির্বাচন কবে, প্রকাশ্যে দিনক্ষণ

উৎসবের মরশুম শেষ হতেই মেগা পুরভোট! ২৫ নভেম্বর ভোট কলকাতা ও হাওড়া-সহ ৭ পুরসভায়

Truth of Bengal: পুজো মিটতেই পশ্চিমবঙ্গে বাজতে চলেছে পুরসভা নির্বাচনের দামামা! রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৫ নভেম্বর রাজ্যের সাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় একযোগে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতে পারে। তালিকায় রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং। কমিশন সূত্রের খবর, এই সাতটি পুরসভার অন্তর্গত মোট ৬,৩০১টি বুথে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত রূপরেখা ও প্রস্তুতি পর্যালোচনায় আজ, শুক্রবার সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসকদের (DM) সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। সেখানে ইভিএম বণ্টন ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।

বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে কোনও নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া কেবল প্রশাসক বসিয়েই পুর পরিষেবা চালানো হচ্ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো হাওড়া পুরসভা, যেখানে গত ১৩ বছর ধরে কোনও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি! ২০১৩ সালে শেষবার ভোট হওয়া হাওড়ার বোর্ডের মেয়াদ ফুরিয়েছিল ২০১৮ সালেই। তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থমকে থাকা সমস্ত পুর নির্বাচন দ্রুত শেষ করার স্পষ্ট বার্তা দেন। তাঁর নির্দেশে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনী ব্লু-প্রিন্ট প্রস্তুত করেছেন।

প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, হাওড়া ছাড়াও দুর্গাপুর, বুনিয়াদপুর, পূজালি, কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, নলহাটি, বালি এবং ধূপগুড়ি পুরসভার অধিকাংশেই ২০১৭ সালের পর আর নির্বাচন আয়োজিত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনামাফিক এই প্রতিটি বন্ধ পুরসভায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধি ফেরানোই নতুন সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য।

অন্যদিকে, প্রশাসনিক সূত্রে খবর যে আগামী বছরের শুরুর দিকেই রাজ্যের আরও ১১২টি পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। ফলে দীর্ঘদিন থমকে থাকা পুরসভা এবং সদ্য মেয়াদ শেষ হতে চলা পুরসভা মিলিয়ে আগামী ৯ মাসের মধ্যে রাজ্যের মোট ১২৭টি পুরসভায় সময়মতো স্বচ্ছ ও অবাধ ভোট করাই এখন নবান্ন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আগামী সপ্তাহ থেকেই সাতটি জেলায় ইভিএম পৌঁছনোর কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে কমিশন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।