মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে টাকা নেওয়ার চাপ! হাইকোর্টে বিস্ফোরক দাবি অভয়ার মা-বাবার
আর জি কর কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টে শিউরে ওঠা বিস্ফোরক সত্য উন্মোচন!
Truth of Bengal: ২০২৪ সালের ৯ আগস্টের আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার পেছনে তৎকালীন শাসক দল ও পুলিশ প্রশাসনের কারসাজির এক শিউরে ওঠা বিস্ফোরক বয়ান সামনে এলো। এবার অভয়ার বাবার মাথায় সরাসরি বন্দুক ঠেকিয়ে ও টাকার লোভ দেখিয়ে মামলা প্রত্যাহারের নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির সামনে দাঁড়িয়ে এই হাড়হিম করা দাবি করলেন স্বয়ং অভয়ার পরিবার।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে সিবিআই তাদের নতুন তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতেই এজলাসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন টালা থানায় প্রায় দু’ঘণ্টা বসে থেকে তাঁরা যখন মেয়ের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক সেই সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নির্দেশে মেয়ের দেহ বেওয়ারিশ লাশের মতো বাড়ির সামনে ফেলে রেখে আসা হয়েছিল।
অভয়ার মায়ের বিস্ফোরক দাবি, তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তা চলে যাওয়ার পর তাঁদের আত্মীয়দের সামনেই অভয়ার বাবার ওপর টাকা নেওয়ার চরম চাপ সৃষ্টি করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও সোমনাথ দে। এমনকি একটি ঘরে আলাদা ডেকে নিয়ে গিয়ে অভয়ার বাবার মাথায় সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র বা বন্দুক ঠেকিয়ে মামলা প্রত্যাহারের নজিরবিহীন হুমকি দেওয়া হয়। রত্না দেবনাথের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, “প্রথম দিন থেকেই আমরা তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে এই মারাত্মক হুমকির ঘটনা জানিয়ে আসছি, কিন্তু তারা কোনও অজ্ঞাত কারণে এই সত্য শুনতে চায়নি।”
উল্লেখ্য, ঘটনার পর তৎকালীন পুলিশ সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করে এবং পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে যায়। আদালতে সঞ্জয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও আসল প্রভাবশালী ষড়যন্ত্রকারীরা আড়ালেই থেকে যায়। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার মহা-পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডে নতুন করে পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে সিবিআই-এর ঢিলেঢালা ভূমিকায় একাধিক শুনানিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টও নতুন বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। সেই পুনর্তদন্তের আবহেই পরিবারটির এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি নতুন করে নাড়িয়ে দিল রাজ্য রাজনীতিকে।






