রাজ্যের খবর

জেলে কংগ্রেস প্রার্থী, স্ত্রী-কে প্রচারে বাধা, নন্দীগ্রামে জনসভার অনুমতি দিল না প্রশাসন

"আমরা কারণ দর্শাতে বাধ্য নই!" নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের নির্বাচনী সভার অনুমতি নিয়ে জবাব প্রশাসনের

Truth of Bengal: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঢাল-তলোয়ারহীন লড়াইয়ে এক বেনজির প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জেরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! ১৯ বছরের পুরোনো পুলিশি মামলায় জেলবন্দি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অনুপস্থিতিতে শুক্রবার থেকে স্বামীর হয়ে ময়দানে নামার কথা ছিল স্ত্রী অর্পিতা প্রধানের। কংগ্রেস শিবিরের পরিকল্পনা ছিল, প্রার্থীকে চক্রান্ত করে জেলে আটকে রাখার আবেগকে সামনে রেখেই দুয়ারে দুয়ারে ভোট প্রার্থনা করবেন অর্পিতা। কিন্তু সেই প্রচারেও কার্যত খাঁড়া নেমে এল! শুক্রবার নন্দীগ্রাম বাজারে অর্পিতা প্রধানের বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনী জনসভা করার প্রশাসনিক অনুমতি নাকচ করে দেওয়া হল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর আচমকাই সভার অনুমতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে জারি করা এক তীব্র ক্ষুব্ধ বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, অনেক দিন আগেই যথানিয়মে অনুমতি চেয়ে আগাম আবেদন জমা দেওয়া সত্ত্বেও কেবল রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে শেষ মুহূর্তে অর্পিতা প্রধানের সভা আটকে দিল নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন। দলীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট প্রশ্ন, “বিরোধীদের মুখ বন্ধ করে এটা কি পুরো ভোট ময়দানকে একতরফাভাবে বিরোধীশূন্য করার মারাত্মক প্রশাসনিক প্রবণতা?”

উল্লেখ্য, দুই দশকের পুরনো মামলায় গত কয়েকদিন ধরে জেলে বন্দি রয়েছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। যদিও বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মিলন প্রধানকে ভোটে লড়ার সুযোগ দিয়ে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার বিকেলে জানা যাবে। তবে জামিনের সুরাহার ওপর ওপর ভরসা না রেখে অর্পিতা প্রধান লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধান ভবনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও বাংলার পর্যবেক্ষক প্রকাশ যোশীর উপস্থিতিতে সংবাদিক সম্মেলন করে অর্পিতা বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলেছিলেন, “যে পুরনো জমি আন্দোলন মামলায় শুভেন্দু অধিকারী আজ মুক্ত আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ঠিক সেই একই মামলায় আমার স্বামীকে কেন জেলে পচতে হচ্ছে?”

এই ক্ষুরধার ও চাঁচাছোলা মন্তব্যের পরেই সন্ধ্যায় খবর আসে যে নন্দীগ্রাম বাজারে তাঁর শুক্রবারের সভা করার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। এই বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের দুই প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষক শ্রী তাতা ভট্টাচার্য ও শ্রী রণজিৎ মুখোপাধ্যায় স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে প্রশাসনিক কারণ জানতে চাইলে তাঁদের কড়া গলায় জানিয়ে দেওয়া হয়, “আমরা কোনও কারণ দর্শাতে বাধ্য নই।” প্রশাসনের এই একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস জানিয়েছে, এই ধরণের স্বৈরাচারী পদক্ষেপ নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আরও বেশি করে কংগ্রেসের পতাকাতলে একত্রিত করবে।

Related Articles