রাজ্যের খবর

অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত! সন্তানহারা মায়ের আবেদনে পুনর্তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

"এর শেষ দেখেই ছাড়ব!", অভয়া কাণ্ডে পানিহাটি থেকে গর্জে উঠলেন শুভেন্দু অধিকারী, শ্মশানের ঘটনায় বসছে তদন্ত

Truth of Bengal: অভয়া কাণ্ডে এবার নয়া মোড়। ন্যায়বিচারের আশায় সন্তানহারা মা রত্না দেবনাথের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে ঘটনার পর নির্মল ঘোষ, সন্দীপ ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়রা যেভাবে তড়িঘড়ি দেহ সৎকার করেছিলেন, সেই বিষয়ে শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রবিবার পানিহাটিতে আয়োজিত অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

ক্ষমতার পালাবদলের পর অভয়া কাণ্ডে প্রশাসনিক সক্রিয়তা বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “দুই বছর আগে এই অভিশপ্ত দিনটির কথা মনে পড়লে আজও আমরা বিচলিত হয়ে পড়ি, হৃদয় ব্যথাতুর হয় এবং চোখে জল এসে যায়। একটা সভ্য সমাজে, সুরক্ষিত জায়গায় এমন বর্বরোচিত ঘটনা ঘটতে পারে তা কেউ ভাবতে পারেনি। ৯ আগস্ট, ২০২৪-এর পর ২০২৫ সালের রাখিপূর্ণিমায় অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযানের সময় ডাক্তার বোনের মায়ের মাথায় পুলিশের নির্মম লাঠির আঘাত দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। কী ভয়ংকর অত্যাচারী শাসকের অধীনে ছিল আমাদের বাংলা! আহতদের হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত হতে দেওয়া হয়নি। আমি কিছু ভুলিনি, যা করণীয় করছি এবং আগামী দিনেও করব। এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়ব।”

এদিন রাজ্য সরকারের নির্দেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে চিকিৎসকদের নীরবতা পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সকাল ১১টা থেকে ১১টা ২ মিনিট পর্যন্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষ যেভাবে বোনের স্মরণে নীরবতা পালন করেছেন, তা দেখে চোখে জল এসে যায়। যতদিন চন্দ্র-সূর্য থাকবে, ততদিন কেউ এই বোনের কথা ভুলবে না।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, এই ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে তিনি রাজনীতি, ধর্ম, সম্প্রদায় বা কোনও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা ভাববেন না। চোখ বন্ধ করে কঠোরতম শাস্তি প্রদান করাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার রুম থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে সিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নিলেও মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় ছাড়া নতুন করে কাউকে গ্রেফতার করেনি। সিবিআই-এর ভূমিকায় হাইকোর্টও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। এবার সন্তানহারা বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে পুনর্তদন্তের নির্দেশ দিয়ে নতুন আশার আলো দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related Articles