বীরভূমে ফাঁস টুলু মণ্ডলের সম্পত্তি রহস্য! পুলিশের হাতে কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের সিক্রেট ডায়েরি
পাথর মাফিয়ার বেআইনি সাম্রাজ্যে বড় ধাক্কা! আদালতের নথিতে বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরলেন সরকারি আইনজীবী
Truth of Bengal: বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ওরফে নাজিবউদ্দিনের বিশাল বেআইনি সাম্রাজ্যের আড়ালে থাকা কোটি কোটি টাকার গোপন কারবারের পর্দা উন্মোচন হতে শুরু করেছে। তদন্তকারীদের হাতে এসেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক গোপন নথি, টুলুর নিজস্ব একটি ডায়েরি! সোমবার টুলুর ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে পুলিশ গ্রেফতার করার পরেই এই বিস্ফোরক ডায়েরির সন্ধান মেলে। পুলিশ প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ না খুললেও, আদালতে সওয়াল-জবাব চলাকালীন বিশেষ সরকারি আইনজীবী যে তথ্য পেশ করেছেন, তাতে চক্ষু চড়কগাছ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের। ম্যানেজার সীতেশের নিজের হাতে লেখা ওই ডায়েরিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, কীভাবে বেআইনি পাথর ব্যবসার বখরা পৌঁছে যেত একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকের হাতে।
মুর্শিদাবাদের সালারের বাসিন্দা সীতেশ প্রামাণিক মূলত মহম্মদবাজারের পাঁচামিতে টুলু মণ্ডলের পাথর ক্রাশারের হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। গত ৩১ জুলাই তাঁকে প্রথম দফায় জেরা করে পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই সোমবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় এবং উদ্ধার হয় বেআইনি কারবারের মূল কারখানা। বীরভূমের জেলা পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ জানিয়েছেন, মহম্মদবাজারে টুলুর একটি পার্কিং গ্রাউন্ডের ভেতরের এক গোপন ‘অফিস-কাম-গোডাউন’-এ তল্লাশি চালিয়ে একটি বিশেষ ছাপার যন্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই যন্ত্রটি দিয়েই কোটি কোটি টাকার ভুয়ো চালান বা নকল ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট) তৈরি করা হতো।
ছাপাখানার পাশাপাশি সীতেশকে লাগাতার জেরা করেই উদ্ধার হয় ওই গোপন ডায়েরিটি। পুলিশ সূত্রের দাবি, ডায়েরির প্রতিটি পাতায় বিভিন্ন স্তরের সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে টুলু মণ্ডলের কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত খতিয়ান রয়েছে। কেস ডায়েরির সঙ্গে ওই ডায়েরির একাধিক পাতার জেরক্স কপিও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই নথিতে জেলার বর্তমান ও প্রাক্তন বহু ছোট-বড় প্রশাসনিক কর্তার নাম জ্বলজ্বল করছে। যদিও তাঁদের যোগসাজশের সত্যতা পুলিশ বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
মামলায় জোরদার আইনি লড়াই চালাতে কলকাতা হাই কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করেছে জেলা পুলিশ। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, ধৃত মিনার মণ্ডল ও সীতেশকে জেরা করেই এই নকল ছাপাখানা ও ডায়েরির হদিশ মিলেছে। তদন্ত যত এগোবে, তত আরও প্রভাবশালী নাম সামনে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ডায়েরির এই চাঞ্চল্যকর সূত্র সামনে আসার পর এখন পুলিশি তদন্ত কোন নতুন মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।






