শুভেন্দুকে নিয়ে চরম উদ্বেগ পার্থর! ফেসবুক পোস্টে কিসের ইঙ্গিত? জল্পনা তুঙ্গে!
পাকিস্তানি জঙ্গির নিশানায় শুভেন্দু! হঠাতই 'দাদা'র পাশে প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়!
Truth of Bengal: জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও তৃণমূল কংগ্রেসে আর জায়গা হয়নি তাঁর। বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে অনেকটাই কোণঠাসা ও অপ্রাসঙ্গিক প্রাক্তন প্রভাবশালী মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে রবিবার দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে হঠাৎই সোশাল মিডিয়ায় এক চাঞ্চল্যকর পোস্ট করে নতুন করে জল্পনা উসকে দিলেন তিনি। বিষয়? পাকিস্তানি জঙ্গির নিশানায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী! এদিন ফেসবুকে গোটা বিষয় নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে পার্থ বাবু লেখেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। আর তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর চর্চা, তবে কি এবার বিজেপির কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছেন পার্থ?
একসময়ের মমতার অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দল এবং রাজ্য সরকার, উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর দাপট ছিল অনস্বীকার্য। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানোর পরও প্রথম দিকে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু ২০২২ সালে তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে নগদ কোটি কোটি টাকা ও সোনা উদ্ধারের পর রাতারাতি ভাগ্য বদলে যায় তাঁর। ঠিকানা হয় কারাগার। দল ও মন্ত্রিত্ব, সব পদ থেকেই তাঁকে ছেঁটে ফেলে তৃণমূল। আড়াই বছর জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পেলেও, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো নেতাদের দল পাশে টানলেও পার্থর জন্য দরজা আর খোলেনি জোড়াফুল শিবির।
রবিবার সোশাল মিডিয়ায় রাজ্য রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে সোচ্চার হন পার্থ। পাক হ্যান্ডলারদের নির্দেশ পাওয়া সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম মণ্ডলের প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “হামিমকে শুভেন্দু অধিকারীর চলাফেরা, কর্মসূচি এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ।” এখানেই না থেমে তিনি আরও যোগ করেন, “পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পাকিস্তানি জঙ্গিদের নজরদারি ও আক্রমণের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখার সমস্ত চেষ্টা আমাদের করতে হবে। মৌলবাদী শক্তির কাছে মাথা নোয়ালে চলবে না, প্রয়োজন জিরো টলারেন্স।”
শুভেন্দুর নিরাপত্তা নিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই আকস্মিক ও অভূতপূর্ব উদ্বেগ দেখে রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করছেন, রাজনীতিতে ফের নিজের অস্তিত্ব জানান দিতেই গেরুয়া শিবিরের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। যদিও এসব প্রশ্নের ভবিষ্যৎ উত্তর দেবে সময়, তবে পার্থর এই চাল ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে বইছে তীব্র জল্পনার হাওয়া।






