জোড়াফুল হাতছাড়া হলে কোন প্রতীক বাছবেন মমতা? সুপ্রিমোর মেগা ‘প্ল্যান বি’ ফাঁস হতেই তোলপাড়!
তিনবারের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতীকই বদলে যাচ্ছে? আইনি লড়াইয়ের মাঝেই বিকল্প ফুল সাজালেন মমতা!
Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের অধিকার এবং ঐতিহাসিক প্রতীক ‘জোড়াফুল’ কার দখলে থাকবে? কালীঘাট শিবির বনাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের টানাপোড়েনে এই প্রশ্ন এখন রাজ্য রাজনীতির শীর্ষে। দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছে। তবে প্রতীক হাতছাড়া হতে পারে, এমন চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও একবিন্দু পিছু হঠতে নারাজ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, প্রতীক হাতছাড়া হলেও লড়াই জারি রাখতে ইতিমধ্যেই নিজের গোপন ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত করে ফেলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
১৯৯৭ সালে ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক বেছে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই প্রতীক যদি হাতছাড়া হয়, তবে তিনি নতুন কোনও ফুলকেই নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বেছে নেবেন বলে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতীক বদলালেও ‘ফুল’ ভিত্তিক চেনা পরিচিতি ছেঁটে ফেলছেন না তিনি। তবে নিছক নতুন প্রতীকে ভরসা না রেখে, এই প্রতীকের অধিকার ধরে রাখতে সমানতালে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও সেরে রেখেছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল।
ঘাসফুল প্রতীকের রাজনৈতিক ও আবেগগত গুরুত্ব অপরিসীম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত দেড় দশকে তৃণমূলের সাফল্যের পেছনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই প্রতীকের মানসিক সংযোগ বড় ভূমিকা পালন করেছে। ফলে তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে এই প্রতীক এত সহজে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে মমতার ঘনিষ্ঠ বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ পরিষ্কার জানিয়েছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা এবং মমতা মানেই তৃণমূল। আমাদের দল সব দিক থেকেই প্রস্তুত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই একটা ব্র্যান্ড, তিনি কোন প্রতীকে লড়ছেন তা স্রেফ আইনি আনুষ্ঠানিকতা।”
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের কাছে নথি চেয়েছিল। মমতাপন্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত কাগজপত্র জমা দিলেও ঋতব্রত শিবির এখনও নথি জমা দেয়নি বলে খবর। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, সাংসদ, বিধায়ক এবং সাংগঠনিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা যার দিকে থাকবে, তাঁকেই প্রতীক বরাদ্দ করবে কমিশন। এই ইস্যুতে বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কমিশনকে সঠিক সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হবে। আর যাই হোক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কোনও পরিস্থিতির জন্যই সবসময় প্রস্তুত থাকেন।





