রাজ্যের খবর

“জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার করতেই হবে!”, এসআইআর বিতর্কে গর্জে উঠলেন মমতা

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন বাতিল করে ফের ভোট হোক! কমিশনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সোচ্চার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনে নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) কেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও বিতর্ক প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় এবং রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই আবহেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারি এবং ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন অবিলম্বে বাতিল করে পুনরায় সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সুর চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদা শাসক দলের শোচনীয় ভরাডুবির পর থেকেই বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আঁতাতের অভিযোগ তুলে আসছিল ঘাসফুল শিবির। এবার সেই আগুনে ঘি ঢেলে মমতা সরাসরি কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন।

সোচ্চার কণ্ঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের গণতান্ত্রিক ভোট ফিরিয়ে দিন। বাংলায় প্রকাশ্য দিবালোকে ভোট লুট করা হয়েছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবার দেশজুড়ে বিশাল জনজাগরণ হওয়া উচিত। ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার-সহ জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। যে যে রাজ্যে এসআইআর প্রয়োগ করে নির্বাচন করানো হয়েছে, সেখানে সেই নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছভাবে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। আপনার কেবল ইমপিচমেন্ট নয়, সোজাসুজি আইনি গ্রেফতার হওয়া উচিত। আর আপনাকে গ্রেফতার করা না হলে দেশের যুব সমাজ, তরুণ ও মা-বোনেরা এবার রাজপথে গণআন্দোলনে নামবেন।”

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের মধ্যবর্তী নির্দেশে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতীক স্থগিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মমতা অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ জানানোর কারণেই তাঁদের দলীয় প্রতীক হাতছাড়া করতে বাধ্য করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিজেপিকে সন্তুষ্ট করতে প্রশাসন ও পুলিশকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তাঁর দাবি। নিজের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি অভিযোগ জানান যে, তাঁকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি সাধারণ সভা বা মিটিং করার জন্যও কঠিন প্রশাসনিক অনুমতি নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

অন্যদিকে মমতার এই সমস্ত বিস্ফোরক অভিযোগকে এক বাক্যে নস্যাৎ করে দিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র পাল্টা তোপ দেগে বলেন, “তৃণমূলের শীর্ষ নেতা-মন্ত্রীদের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি ও অপশাসনের ফলেই বাংলার মানুষ তাঁদের প্রত্যাখান করেছেন। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এখন কমিশনের ওপর মিথ্যা দোষ চাপানো হচ্ছে। প্রতিটি দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” নির্বাচন কমিশন ও শাসক-বিরোধী এই সম্মুখ সমরে এখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতির ময়দান।

Related Articles