আমতলায় অভিষেকের কার্যালয় ভাঙায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের
মঙ্গলবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ওই কার্যালয়ে আর কোনও ভাঙার কাজ করা যাবে না
Truth of Bengal: আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় ভাঙার উপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়াল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ওই কার্যালয়ে আর কোনও ভাঙার কাজ করা যাবে না। একই সঙ্গে মামলাটি ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়েছে। এদিন আদালত রাজ্যকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আমতলার ওই কার্যালয় থেকে প্রশাসন কী কী সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পরবর্তী শুনানির আগে সেই রিপোর্টের একটি কপি আবেদনকারী পক্ষকেও দিতে হবে।
শুনানিতে লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসের হয়ে আইনজীবী কিশোর দত্ত জানান, জমি খালি করার নির্দেশ ঘিরে ৫০৭, ৫০৯ এবং ৫১২ নম্বর দাগ নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনের অভিযোগ মূলত ৫০৯ এবং ৫১২ নম্বর দাগের জমিতে নির্মাণ নিয়ে হলেও ভাঙার কাজ হয়েছিল ৫০৭ নম্বর দাগের অংশে, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় রয়েছে। রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়, ৫০৭ নম্বর দাগে পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অফিস রয়েছে। ৫০৯ নম্বর দাগে মতি মল্লিকের ঘর এবং ৫১২ নম্বর দাগ লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে রয়েছে। পুরসভার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের রিপোর্টে অনুমোদিত নকশার বাইরে প্রায় সাড়ে ছ’মিটার নির্মাণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে আদালতে জানায় রাজ্য।
শুনানির সময় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। পঞ্চায়েত স্তরে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আর কোনও দায়িত্ব থাকে কি না, তা জানতে চান তিনি। এই মামলার সূত্রপাত জুলাই মাসে। গত ১৮ জুলাই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন আমতলায় অভিষেকের কার্যালয়ের একটি অংশ ভেঙে দেয়। পরের দিনও বুলডোজার নিয়ে সেখানে পৌঁছয় প্রশাসন। এর পর ছুটির দিনে বিশেষ এজলাস বসিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট ভাঙার কাজে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। পরবর্তী শুনানিতেও সেই সুরক্ষা বহাল রেখেছিল আদালত।
লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসের তরফে শুরু থেকেই দাবি করা হচ্ছে, বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ ছিল ৫০৯ ও ৫১২ নম্বর দাগ নিয়ে, অথচ ভাঙা হয়েছে ৫০৭ নম্বর দাগের নির্মাণ। সেই কারণে ক্ষতিপূরণের দাবিও আদালতে তুলেছে আবেদনকারী পক্ষ। আগের শুনানিতেও একই যুক্তি পেশ করেছিলেন কিশোর দত্ত। এবার স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ায় আপাতত আমতলার ওই কার্যালয়ে নতুন করে কোনও ভাঙার কাজ করতে পারবে না প্রশাসন। ২৬ নভেম্বর ফের মামলাটি শুনবে হাই কোর্ট। তার আগে বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্যকে।






